বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ সাংবাদিক চয়নের সন্ধানে অগ্রগতি নেই

Chayan--আলিপুরদুয়ারের উত্তরবঙ্গ সংবাদের সাংবাদিক চয়ন সরকারের নিখোঁজ হওয়ার পর পেরিয়ে গিয়েছে পুরোপুরি তিনদিন। এখনও খোঁজ মিলল না। সাংবাদিক নিগ্রহে  মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সমর ভট্টাচার্য এখনও অধরা। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ হন চয়ন।

নিখোঁজকাণ্ডের প্রতিবাদে আলিপুরদুয়ারে বনধ হয়েছে। বামফ্রন্ট এই বনধ-এর ডাক দেয় । সমর্থন দেয় কংগ্রেস, বিজেপি, এসইউসিআই ও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সাংবাদিক নিখোঁজের ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সিআইডির এক প্রতিনিধি দল বুধবার চয়ন সরকারের বাড়ি যায়। সিআইডি প্রতিনিধিরা চয়ন সরকারের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে।

বিরোধীদের দাবি, শুধু তদন্ত নয়, রেজাল্ট চাই।

পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে অপরহণ করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদ পছন্দ না হওয়ায় এর আগে ওই সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল কংগ্রেস। নেতৃত্বে ছিলেন জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি সমীর ভট্টাচার্য। সশস্ত্র অবস্থায় তিনি এসেছিলেন বলে অভিযোগ।

আলিপুরদুয়ার থেকে প্রায় ৬ কিমি দূরে শলশলাবাড়ি স্টেশনের কাছে রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় ওই সাংবাদিকের বাইক ও মানিব্যাগ। অভিযোগ, তৃণমূলের বিরুদ্ধে খবর করার অভিযোগে ২৮ জুলাই বীরপাড়ায় চয়নের বাড়ি ভাঙচুর ও পরিবারের লোকজনদের হেনস্থা করেন জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি সমর ভট্টাচার্য ও তাঁর সঙ্গীরা।

অভিযোগ, সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের বিবেকানন্দ কলেজে বেআইনীভাবে অর্থের বিনিময়ে ছাত্র ভর্তি সংক্রান্ত অভিযোগ পেশ করা হয় আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের কাছে। এই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে চয়নের পাঠানো খবর প্রকাশিত হয় উত্তরবঙ্গ সংবাদে। এর প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা গত ২৮ জুলাই আলিপুরদুয়ারে পথ অবরোধ করেন।

পরে এরা চয়ন সরকারের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হন এবং হামলা চালান। চয়নকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এই দুষ্কৃতীরা এবং ভাঙ্গচুর চালায়। দুষ্কৃতীদের মধ্যে নয় জনের নামে থানায় এফ আই আর করেন চয়ন।

পুলিশ দুষ্কৃতীদের কাউকে গ্রেপ্তার না করায় চয়ন রবিবার জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানিয়ে দেন যে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার না করা হলে সোমবার থেকে আলিপুরদুয়ার থানার সামনে আমরণ অনশন শুরু করবেন। এর পরেই তৎপর হয়ে ওঠে জেলা পুলিশ। রবিবার বিকেল নাগাদ এফআইআরে উল্লেখিত নয় জনের মধ্যে আট জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে রবিবার বিকেলেই একটি ফোন পেয়ে চয়ন তাঁর মোটর সাইকেল নিয়ে আলিপুরদুয়ারের কাছেই সলসলাবাড়িতে যান।

বাড়ি না ফেরায় চয়নের খোঁজখবর শুরু হয়ে যায়। রাত আটটা নাগাদ দেখা যায় চয়নের মোটর সাইকেলটি সলসলাবাড়িতে রাস্তার ধারে পড়ে আছে। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। একটি ঝোপের মধ্য থেকে চয়নের পার্স এবং নোটপ্যাড পাওয়া যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন