বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গবন্ধুর পলাতক ৬ খুনীকে ফেরাতে এতোদিন কোনো কাজ হয়নি!

Bangabandhu--বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার দায়ে মৃতুদণ্ড প্রাপ্ত ৬ খুনিকে শিগগির ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুনিদের ফিরিয়ে আনতে যে প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে তাতে এর ফল পেতে আরো অন্তত দুই বছর লাগবে। তার মতে, এদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যথাযথ প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছে বছরখানেক আগে। এর আগে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় চ‚ড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড হয় ১২ আত্মস্বীকৃত খুনির। এদের মধ্যে দণ্ড কার্যকর হয়েছে ৫ জনের। মারা গেছেন একজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে ৬ জন। পলাতকরা হল লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান। এদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারি রয়েছে। পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন আজিজ পাশা। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ফাঁসি কার্যকর হয়েছে সৈয়দ ফারুক রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহারিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একে এম মহিউদ্দিনের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পলাতক থাকা খুনিদের ফিরিয়ে আনতে আইনী প্রক্রিয়ায় সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দুইটি ল ফার্মের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এইচ মাহমুদ আলী গত বছরের জুনে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গে বৈঠককালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। এসময় জন কেরি যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে মাহমুদ আলীকে পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে তার পূর্ণ সহায়তা থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন। সূত্রমতে, ইতোমধ্যে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা অবহিত করা হয় জন কেরিকে। যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তিবদ্ধ ল ফার্ম ‘স্কেডেন’ এ বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়। সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এই ল ফার্ম যুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ফার্মের মাধ্যমে একটি আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও লিবিয়ার কাছে চিঠিও দেয়া হয়েছে। খুনিদের ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, এসব খুনি যুক্তরাষ্ট্র, লিবিয়া ও কানাডায় পলাতক রয়েছে।

এদিকে পলাতক খুনিরা কোন কোন দেশে রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কোনো মহল। তবে সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ি লে. কর্ণেল (অব.) রাশেদ চৌধুরী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে। সেখান থেকে কানাডায়ও তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সূত্রমতে, রাশেদ চৌধুরী কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চেষ্ঠায় রয়েছেন। আর নূর চৌধুরী রয়েছে কানাডায়। এরআগে তিনি জার্মানিতে ছিলেন।

সূত্রমতে, খন্দকার আব্দুর রশিদ রয়েছেন লিবিয়ার বেনগাজি শহরে। মাঝেমধ্যে পাকিস্তানে তার যাতায়াত রয়েছে। শরিফুল হক ডালিম কেনিয়ায় ব্যবসা করলেও তার যাতায়াত রয়েছে লিবিয়া ও পাকিস্তানে। আব্দুল মাজেদ ও মোসলেম উদ্দিন পাকিস্তান কিংবা লিবিয়ায় থাকতে পারেন। এদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। সূত্রমতে, নিজেদের রক্ষায় এরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে থাকে। এদের অবস্থান সম্পর্কে তীক্ষ নজর রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া আছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আইনগত প্রক্রিয়ার কারণে মূলত এদের ফিরিয়ে আনতে সময় লাগছে। তিনি জানান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় ল ফার্ম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তবে এবারের প্রক্রিয়ার একটা ফল আসবে।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন