শেখ কামাল আমার ২ বছরের ছোট হলেও খুবই মেধাবী এবং বুদ্ধিমান ছিল। রাজনীতি ও খেলাধুলার পাশাপাশি সে গান গাইতো ও সেতার বাজাতো। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরো বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে শেখ কামাল অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এক কথায় শেখ কামাল ছিল বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী।
শেখ কামাল কর্তৃক দেশের সবচেয়ে আধুনিক স্পোর্টস ক্লাব প্রতিষ্ঠার পটভূমি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এ ক্লাব ছিল তার হৃদয়। স্বাধীনতার পর ধানমন্ডি এলাকার যুবসমাজকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শেখ কামাল আবাহনী ক্রীড়া চক্র প্রতিষ্ঠা করে।
প্রধানমন্ত্রী আবাহনীর প্রতি শেখ কামালের অগাধ ভালোবাসার একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৩১ জুলাই জার্মানী যাওয়ার সময় আমি শেখ কামালকে জিজ্ঞেস করি- তার কি প্রয়োজন। জবাবে সে আবাহনীর খেলোয়াড়দের জন্য এডিডাস বুট আনতে বলে।’ এসব কথা বলার সময় শেখ কামালের বড় বোন শেখ হাসিনার কন্ঠ বাকরুদ্ধ হয়ে আসে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ কামাল শহীদ হওয়ার পর টিকে থাকার জন্য আবাহনী ক্লাবকে বহু ঝড় ও কঠিন সময়ের মোকাবেলা করতে হয়েছে। ১৯৭৫ সালের বর্বরোচিত ঘটনার পর এই ক্লাবকে কেউ-ই ছেড়ে যায়নি। তাদের ত্যাগ ও একনিষ্ঠতায় ক্লাব বেঁচে ছিলো। দুঃসময় ক্লাবের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এর কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
ধানমন্ডি মাঠে শেখ কামাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে এ এলাকার জনগণের জীবনে পরিবর্তন আসবে। তিনি বলেন, এ কমপ্লেক্স নির্মাণের ফলে জনগণের সুন্দর জীবন-যাপনের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ কমপ্লেক্সে নারী ও শিশুদের জন্য সবধরনের খেলাধুলার সুযোগ থাকছে। এ ছাড়া শরীর চর্চারও চমৎকার ব্যবস্থা থাকছে।
তিনি বলেন, এটি একটি বিশাল পরিকল্পনা ও ব্যয়বহুল প্রকল্প হলেও যারা আবাহনীকে ভালোবাসেন তারা এগিয়ে আসলে এর নির্মাণে কোনো সমস্যা হবে না। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল যেভাবে বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের সূচনা করেছিলেন সেভাবে এটিও দেশে একটি আধুনিক কমপ্লেক্স হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাসস


