চিটফান্ড ‘সারদা’ নিয়ে মদন মিত্র ও সারদার সম্পর্ক যে কতটা ঘনিষ্ঠ, তা বোঝাতে গিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআইয়ের আইনজীবী কে রাঘবচারুলুক বলেছেন, সুদীপ্ত সেন ও মন্ত্রী মদন মিত্র দুই শরীর এক আত্মা। কারণ, এলআইসি-র লোগো-তে দু’টি হাত যেমন একটি প্রদীপকে আড়াল করে রাখে, ঠিক সেভাবেই সারদাকে আগলে রেখেছিলেন মদন মিত্র।
আইনজীভী এমনটাও বললেন, যে সাপ পিঁপড়েকে খায়। আবার সাপ মরে গেলে পিঁপড়েই সাপকে খায়।
শুনানির শুরুতে অবশ্য জামিন আদায়ের চেষ্টায় কোনও কসুর করেননি মদন মিত্রর আইনজীবী কপিল সিব্বল। প্রথমেই তিনি সওয়াল করেন, মদন মিত্রর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১২০বি ধারা প্রয়োজ্য নয়। এই বক্তব্যের পক্ষে সিব্বল সওয়াল করেন, ৪০৯ ধারায় তখনই অভিযোগ আনা হয়, যখন কেউ এজেন্ট, ব্যাঙ্কার বা পার্টনার হিসেবে টাকা তোলেন। এক্ষেত্রে মদন মিত্র সারদার পার্টনার ছিলেন না। তিনি এজেন্ট বা ব্যাঙ্কার হিসেবে টাকাও তোলেননি।
পাশাপাশি ১২০বি ধারা প্রসঙ্গেও কপিল সিব্বল বলেন, মদন মিত্রর বিরুদ্ধে অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্রের জন্য যে ১২০ বি ধারা দেওয়া হয়েছে, তারই বা প্রমাণ কী আছে? কারণ, সারদার সমর্থনে বক্তৃতা দেওয়া, সারদার অফিসে যাওয়া বা সারদার অফিসে তাঁর নামাঙ্কিত বোর্ড থাকা– এগুলো কোনওভাবে ১২০ বি ধারার আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়।
কিন্তু, সিবিআইয়ের আইনজীবী কে রাঘবচারুলু পাল্টা যুক্তি-জাল সাজিয়ে সওয়াল করেন, মদন মিত্র সুদীপ্ত সেনকে পাশে দাঁড় করিয়ে বলেছিলেন, আমি সারদার সঙ্গে আছি। এখানেই সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে তাঁর যৌথ ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত।
সারদার একটি ম্যাগাজিনে মদন-সুদীপ্তর ছবি দেখিয়ে সিবিআইয়ের আইনজীবী কটাক্ষের সুরে বলেন, মদন মিত্রর সেই সব বক্তৃতা আমানতকারীদের প্রলুব্ধ করেছিল। তিনি সজ্ঞানেই সুদীপ্ত সেনকে এমনভাবে তুলে ধরেছিলেন, যাতে মনে হয়েছিল, লাগে টাকা, দেবে সুদীপ্ত সেন। যেখানে যে রাজনীতিবিদের টাকার প্রয়োজন হবে, সুদীপ্ত সেন দেবেন।
পাশাপাশি মদনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে সিবিআইয়ের আইনজীবী আরও সওয়াল করেন, মদন মিত্রর মতো ব্যক্তিরা হাত না মেলালে, সুদীপ্ত সেনের পক্ষে এত টাকা তোলা কোনওভাবে সম্ভ হত না। তিনি নিজের ভাবমূর্তিকে সজ্ঞানে কাজে লাগান সারদার হয়ে। তাই জামিনের আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে মদন মিত্রর সামাজিক অবস্থানকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, তা শুধু কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। সমাজের বিরুদ্ধে।
শেষ পর্যন্ত সিবিআইয়ের সওয়ালেই সিলমোহর দিয়ে মদন মিত্রর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


