আত্মরক্ষার নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশের পুলিশ। এমন মন্তব্য এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের (এএইচআরসি)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, পুলিশের সর্বশেষ মিথ্যাচারের প্রমাণ পুলিশ সদর দফতর থেকে দেয়া ২ আগস্টের একটি বিবৃতি। সেখানে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আশ্রয় নিয়েছে তারা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলায় দেয়া পুলিশের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পুলিশ ঠিকমতো আত্মরক্ষার অধিকার ব্যবহার করছে না তারা অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করছে সে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত একটি নির্বাহী কমিটি। বিষয়টি আদালতেও উঠানো হতে পারে। কোনো ঘটনায় পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার বৈধ না অবৈধ তা শুধু ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পুলিশ বিচারবহির্ভূত বন্দুকযুদ্ধে জড়িত রয়েছে বলে গত জুলাই মাসে কোনো ম্যাটিস্ট্রেট বা আদালত দাবি করেননি।
এএইচআরসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যখনই বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে তখনই বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এ ব্যাপারে তাদের অদক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পুলিশের বিবৃতিটি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অপরাধের ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকা তুলে ধরেছে।
বলা হয়েছে, নিজেদের অপরাধ তদন্ত কৌশলের ব্যাকআপ হিসেবে পুরনো তদন্ত কৌশল ও ফরেনসিক পরীক্ষা ব্যবহার করে থাকে পুলিশ। একই সময় তারা হুমকির মাধ্যমে সন্দেহভাজন অপরাধীদের জবানবন্দি নিতে অত্যাচার চালিয়ে থাকে। অত্যাচারের মাধ্যমে তদন্ত পদ্ধতি বাংলাদেশের সমাজে ব্যাপক ভীতির সৃষ্টি করেছে। বিচার বহির্ভূত হত্যা ও পুলিশি বিবৃতির বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও সচেতন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশ সদ্যসরা ‘ক্রসফায়ার’, ‘এনকাউন্টার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ‘আত্মরক্ষা’ বিভিন্ন নামে নিজেদের হত্যাকাণ্ডকে ‘সঠিক’ হিসেবে তুলে ধরে। প্রকৃত সত্য হলো, বেসামরিক লোকজনকে হত্যাসহ নিয়মিত যাবতীয় অপরাধ করে চলছে পুলিশ সদস্যরা। ১৯৯৮ সালের অপরাধ বিধির ৪৬(১) ধারাটির লঙ্ঘন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
ওই ধারা অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে পারবে না।
বিবৃতিতে পুলিশ ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ ও হয়রানির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতের সঠিক ভূমিকা নেয়ার ব্যর্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।


