বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে জরুরি অবতরণ করা ইউনাইটেডের ইঞ্জিন দুমড়ে গেছে

UNITED-BDভারতের ছত্তিশগড়ে জরুরি অবতরণ করা বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজটির একটি ইঞ্জিন একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। বোয়িং এমডি-৮৩ উড়োজাহাজটির ছবি পর্যালোচনা করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র এ তথ্য জানায়। যদিও ইউনাইটেডের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, পাখি ঢুকে পড়ায় ইঞ্জিনের এই বেহাল দশা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেবিচকের একজন কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত অনুসন্ধানের আগে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে দুর্ঘটনায় পড়া উড়োজাহাজটির ইঞ্জিনের যে ছবি পাওয়া গেছে, তাতে দেখা গেছে, ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। পাখি আঘাত করলে ইঞ্জিন এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া ৩০ হাজার ফুট উপরে পাখি আঘাত করার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের ভেতরে পাখি ঢুকে পড়ায় পাইলট জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইটটি। উড্ডয়নের দেড় ঘণ্টার মাথায় ভারতের মুম্বাইয়ের নাগপুরের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় এমডি-৮৩ উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখেন বৈমানিক। পরবর্তীতে উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে ছত্তিশগড়ের রায়পুর বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হন তিনি। এ সময় পুরো এলাকায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। দমকল ও অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উড়োজাহাজের যাত্রীদের মধ্যে। পরবর্তীতে আটকে পড়া ১৬৪ জন যাত্রী ও আটজন ক্রুকে স্থানীয় একটি হোটেলে নেয়া হয়।

এসব যাত্রী ফিরিয়ে আনতে শনিবার রাতে অন্য একটি এমডি-৮৩ উড়োজাহাজ পাঠায় ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ, যা আগে থেকেই ছিল উড্ডয়ন অনুপযোগী।

ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে গিয়ে গত কয়েক বছরে একের পর এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। তাই উড়োজাহাজের ত্রুটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বিভিন্ন সময় চিঠি পাঠিয়েছে বেবিচক। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অডিটেও ইউনাইটেডের আটটি টেকনিক্যাল ত্রুটি চিহ্নিত হয়। এর মধ্যে তিনটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি টেকনিক্যাল সমস্যা হলো— উড়োজাহাজ উড্ডয়নের আগে সি-চেক হয় না, লজিস্টিক স্বল্পতা ও ইঞ্জিনিয়ারের ঘাটতি এবং উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন