বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে পাচারের পর ফেরার কাহিনী

Indiaউচ্চ বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে মানবপাচারকারীদের কাছে পাচার হন জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ১৩ যুবক।

পাচারকারীরা ওই যুবকদের নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিবে বলে মুক্তিপণ দাবিও করেছিল বলে জানিয়েছেন পাচার যুবকদের পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে মানবপাচাকারী চক্র থেকে দেড় মাস পর পালিয়ে শনিবার ৮ আগস্ট রাতে নিজ এলাকায় ফিরলেন দুই যুবক।

পাচার হওয়া যুবকেরা হলেন, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে ইসমাইল (৩৫), জালাল আহম্মেদের ছেলে রফিজল (৩৮), আব্দুল হাসেমের ছেলে ফয়সাল (২৮), হানিফের ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন (২০), হাবিবুল্লাহর ছেলে মিজানুর (৩০), মোহাম্মদ আলীর ছেলে কবির (৩৪), জয়নাল আবেদীনের ছেলে জাফর (৪০), মৃত হারিচ মিয়ার ছেলে অজিউল্লাহ (২৩), নূরুল ইসলামের ছেলে নেছার উদ্দিন (২৫), ইউছুফ আলীর ছেলে মো. লিটন মিয়া (২৭) ও উপজেলার দুলার হাট এলাকার তোফায়েল (২১), সোহেল (২৬) ও নূরনবী (২৩)।

পাচারকারী থেকে পালিয়ে আসা যুবক অজিউল্লাহ ও জাফর জানান, ২০ জুন একই এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল রবের ছেলে জসিম উচ্চ বেতনে কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে খুলনায় নিয়ে লুৎফর রহমান নামে এক ব্যক্তির কাছে তারাসহ ১৩ জনকে রাখে। খুলনা থেকে চোরাই পথে গভীর রাতে ভারতে নিয়ে যায়। ভারতে জহিরুল নামে এক ব্যক্তির কাছে প্রত্যককে ৩০ হাজার টাকা করে বিক্রি করে দেয়।

তারা জানান, ভারতের ওই ব্যক্তি তাদের দিয়ে দুর্গম আটলান্টিক মহাসাগর পারে মাছ শিকার ও টোকাইয়ের কাজ করাত। ঠিকমত দু’বেলা খাবার দিত না।

তারা আরও জানান, তাদের এ কথা ভারতের সুমন মজুমদার নামে এক ব্যক্তির কাছে খুলে বলেন। তিনি ৬ আগস্ট তাদের ওখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করেন। তার সহযোগিতায় তারা পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন।

পাচার হওয়া জাফরের ভাই মতিন বলেন, ‘ভারতে অবস্থানকালে জসিমের সঙ্গে তার ভাইয়ের খবর জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা ভাল চাকরি করছে। ভাল বেতন পাচ্ছে। দেশে ফেরার কথা বললে তিনি বলেন, তাদের প্রত্যেককে ভারতে পাঠাতে আমার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। টাকা দিলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘ওই টাকা জসিমের স্ত্রীর রুনু বেগমের কাছে জমা দিতে বলেন। তার ভাই অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। এ বিষয়ে কেউ জানলে উগ্রপন্থীরা তাকে ধরে কারাগারে বন্দি করবে। পরে আর তিনি দেশে ফিরতে পারবেন না। এ ভয়ে আমরা থানা পুলিশ করিনি।’

এদিকে পাচার হওয়া অজিউল্লাহ ও জাফর দেশে ফেরার কথা শুনে জসিম ও তার স্ত্রী রুনু বেগম পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে শুনেছেন। তবে কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন