বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সকালে গ্রেফতার ৬ জন বিকেলে বন্দুকযুদ্ধে মৃত

sundarban_92039বাঘের চামড়াসহ সকালে গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জন বিকেলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। ঘণ্টা দশেক আগে তাদের আটক করেছিল পুলিশ। পরে এদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে বের হলে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু হয়। সুন্দরবনের খুলনার কয়রা অংশে এই রবিবার ৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

খুলনার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মান্দারবাড়িয়া খাল এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তারা নিহত হন।

নিহতরা হলেন— দক্ষিণ বেদকাশীর চরা মুখা গ্রামের আব্দুল গাজীর ছেলে রফিকুল গাজী (২৫) ও মামুন গাজী (২২), জোড়শিং গ্রামের মৃত জহুর গাজীর ছেলে মজিদ গাজী (৪৫), সৈয়দ আলী সানার ছেলে সিদ্দিক সানা (৪৫), মৃত. মোংলাই সানার ছেলে আনছার সানা (৩৫), জোমাত ঢালীর ছেলে বাপ্পি ঢালী (২২)।

এর আগে রবিবার ভোরে তিনটি বাঘের চামড়াসহ তাদের কয়রার চরামুখ এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তখন এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়, তাকে রেখে অন্যদের নিয়ে পুলিশ বনে অভিযানে যায়।

পুলিশ সুপার হাবিব বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের নিয়ে সুন্দরবনে তাদের আস্তানায় আরও বাঘের চামড়া উদ্ধারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযান দলটি মান্দারবাড়িয়া খাল এলাকায় চোরা শিকারিদের আস্তানার কাছে গেলে পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে তারা (চোরাই শিকারি দল)। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।”

দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধের সময় পুলিশের সঙ্গে থাকা ছয় ‘চোরা শিকারি’ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার।

তবে অভিযানে গিয়ে কথিত চোরা শিকারিদের সহযোগীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা হাবিব বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চারটি বন্দুক, একটি পিস্তল এবং দেশীয় বিভিন্ন ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, বন্দুকযুদ্ধের সময় কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্র নাথসহ পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি বাঘের চামড়া, পাঁচটি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

কয়রা থানার ওসি হরেন্দ্র নাথ সরকার জানান, সকালে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশীর চোরমুখা গ্রাম থেকে ইলিয়াস বাহিনীর সদস্য বনদস্যু মজিদ গাজীকে আটক করা হয়। বিকেলে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া গেলে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে। উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছয়জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ১০ ফুট লম্বা বাঘের চামড়া, চারটি একনালা বন্দুক, একটি পিস্তল ও সাত রাউন্ড বন্দুকের গুলি উদ্ধার করে।

এর আগে রবিবার দুপুরে সুন্দরবনের কোবাদক স্টেশনের বন কর্মকর্তা শিবাজী চক্রবর্তী  জানিয়েছিলেন, ভোরে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা গ্রামের শফিকুল গাজীর বসতঘর থেকে তিনটি বাঘের চামড়াসহ সন্দেহভাজন ৭ বাঘশিকারীকে আটক করে পুলিশ। আটকদের মধ্যে আব্দুল গাজীর ছেলে শফিকুল ইসলাম গাজী ও মামুন গাজী, জামাত ঢালীর ছেলে বাপ্পি ঢালী ও শহীদুল গাজীর স্ত্রী নাজমা বেগমের (২৫) নাম জানান তিনি।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন