নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী আশামনির এখন কি হবে? তার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা তাকে স্ত্রী হিসেবে কোনোভাবেই স্বীকার করতে রাজি নন। আশামনি মুসলিম হওয়ায় সমস্যাটির তৈরি হয়েছে। তাকে মরদেহের সঙ্গে পিরোজপুরেও যেতে দেওয়া হয়নি। উপরন্তু, নীলাদ্রির পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, নীলাদ্রির খুনের পেছনে আশামনির হাত রয়েছে!
এদিকে দুইদিন ধরে না ঘুমানো আশামনিকে রবিবার বিকেলে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে ঘুমিয়ে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও সংগঠক শাম্মী হক। শাম্মী বলেন, শুক্রবার থেকে আশামনি ঘুমায়নি। তাই তার ঘুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি উলেখ করে শাম্মি বলেন, কোথায় রাখা হয়েছে আশামনিকে কৌশলগত কারণে তা বলা যাবে না। সকাল থেকে বারবার তিনি মুর্চ্ছা যাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি।
নিলয়ের স্বনজরাও আশামনির সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। রবিবারও নিলয়ের চাচা বিমল চট্টপাধ্যায় বলেছেন, তারা এ বিয়ে বিশ্বাস করেন না। স্ত্রী দাবিদার আশামনিকে তারা চেনেন না। তিনি বলেন, ঈদের সময়ও তাদের কিছু জানায়নি নিলয়। ঘটনার পরদিন শনিবার ঢাকা মেডিকেল মর্গে তার একাধিক বন্ধুর কাছেও এ বিষয়ে খোঁজ নিলে তারা বিমলকে জানিয়েছেন, তারাও জানেন না বিয়ের ঘটনা।
রবিবার আশামনি বলেছিলেন, তাদের বিয়ের বিষয়টা কাউকে জানানো হয়নি। দু’বছর আগে বিয়ে করেন তারা। সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তারা জানাননি বিষয়টি।
এদিকে পিরোজপুরে নিলয়ের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গ্রামের লোকজন নিলয়ের পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিচ্ছেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা অপর্ণা ও বাবা তারাপদ চট্টোপাধ্যায় নির্বাক হয়ে গেছেন ছেলে হারানোর বেদনায়।
নীলাদ্রির বোন জয়শ্রী চট্টোপাধ্যায় জানান, ১৯ দিন বাড়িতে থেকে গত ২৫ জুলাই নীলাদ্রি ঢাকায় যান। গত বৃহস্পতিবার রাতে তার সঙ্গে নীলাদ্রির শেষ কথা হয়। রোববার রাতে নীলাদ্রির গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর তার মায়ের আহাজারি ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। নিলয়কে এক নজর দেখতে বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। নীলাদ্রি হত্যার বিচারের দাবি করেছে গ্রামবাসী এবং পিরোজপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ওই রাতেই নিলয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


