বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রসেনজিতের তেত্রিশ বছরের সেরা ৩ ছবি

Prosenjit-Newsworldbdপ্রসেনজিত বলেছেন, অভিনয় করে যাওয়াটাই আমার কাজ। তবে এবার সিরিয়াসলি ছবি পরিচালনার কথা ভাবছি। ২০১৬ সালের মধ্যেই হয়তো সবাই আমাকে আবার পরিচালক হিসেবে দেখতে পাবেন। প্রসেনজিত তার তেত্রিশ বছরের অভিনয়জীবনে তিনটি সেরা ছবি হিসেবে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দোসর’, গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’, সৃজিত মুখার্জির ‘জাতিস্মর’কে মূল্যায়ন করেছেন।

সাম্প্রতিক কোন ছবি ভালো লেগেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসেনজিত বলেন, শিবপ্রসাদ মুখার্জির ‘বেলা শেষে’ ছবিটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই মুগ্ধ হওয়ার মতোই একটা ছবি। সাংসারিক জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি অন্যরকম একটা ছবি। এই ধরনের ছবি নির্মাণ হওয়াটা এখন খুব জরুরি। আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লেগেছে এই ছবিতে নায়ক-নায়িকার বয়স আশি দেখানোর পরেও তা বাংলা সিনেমার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তার মানে দর্শকদের রুচির একটা বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান। পারিবারিক ছবি বলতে যা বুঝি, যা পড়েছি, এই ছবির মাধ্যমে সেটাই দেখতে পেলাম। বাংলা ছবির জন্য এটা খুবই ইতিবাচক। সম্প্রতি হিন্দি ছবিতেও একটা পরিবর্তন দেখছি। আলোচিত ছবিগুলোর প্রায় সবগুলোতেই গল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। ‘পিকু’ বলুন কিংবা ‘বজরঙ্গি ভাইজান’—দুটোর গল্পই খুব শক্তিশালী। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে অন্যরকম এক সালমান খানকে দেখেছে মানুষ। মানুষ এখন ভিন্ন স্বাদের গল্পই খুঁজে বেড়াচ্ছে।

অভিনেতা প্রসেনজিতের বাংলাদেশে একটি নতুন ছবিতে অভিনয়ের আলোচনা চলছে। কিছুদিন আগে এই অভিনেতা বাংলাদেশে শুটিং করেছেন ‘শঙ্খচিল’ নামের আরেকটি ছবির। এই দুটি ছবির প্রসঙ্গ ছাড়াও নানা বিষয়ে সোমবার মুম্বাইয়ের থাকা প্রসেনজিতের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন ঢাকার সাংবাদিক মনজুর কাদের। এই সময় তিনি এসব কথা বলেন।

কেমন আছেন?
ভালো আছি।

আপনি কি কলকাতায়?
না, এখন মুম্বাইয়ে। একটি ছবিতে কাজের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছি।

কোন ছবি?
মুম্বাইয়ের একটি ছবি। এই মুহূর্তে নামটা বলতে চাচ্ছি না। আশা করছি, ১৩ তারিখ ভক্তদের এ ব্যাপারে একটি নতুন খবর দিতে পারব।

আপনি নাকি বাংলাদেশের নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন?
এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। সাগর ভাইয়ের (ফরিদুর রেজা সাগর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই) অফিস থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিছুদিন পর পরিচালক কলকাতায় আসবেন। তখন গল্প পড়ে, তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

আপনি তো কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলের কিছু জায়গায় গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ ছবির কাজ করেছেন। ওই কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
আমি দুই দফায় বাংলাদেশে কাজ করেছি। প্রথম দফায় যখন কাজ করেছি, তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই কিছুটা ভয় ছিল। সাতক্ষীরা অঞ্চলের যে জায়গায় কাজ করেছি, সেখানকার মানুষ যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। মনেই হয়নি পশ্চিম বাংলার বাইরে কোথাও গিয়ে কাজ করছি। খুব ভালো লেগেছে ওই মানুষগুলোকে। পরিবেশটা দারুণ ছিল, তাই কাজটাও চমৎকার হয়েছে। ‘শঙ্খচিল’ ছবির পুরো শুটিংই শেষ। ডাবিংয়ের কাজ চলছে। আমি কিন্তু গৌতম ঘোষের ‘কমলেশ্বর’ নামের আরও একটি ছবিতে কাজ করেছি।

এই ছবিতে আপনার সঙ্গে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের কুসুম শিকদার। তাঁর কাজ আপনার কেমন লেগেছে?
কুসুমের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করলাম। খুবই সিনসিয়ার। তা ছাড়া গৌতম দা (গৌতম ঘোষ) তো একটু অন্যভাবে কাজ করেন। সব মিলিয়ে আমাদের কাজটাও ভালো হয়েছে। কুসুম প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছে। গৌতম দা’র সঙ্গে কাজ করাটাও তাঁর নতুন এক অভিজ্ঞতা।

অভিনয়ে অনেক বছর পার করে দিলেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনের এই সময়টাতে দাঁড়িয়ে আপনি জীবনকে কীভাবে দেখেন?
আমার তো মনে হয়, আমাদের জীবন মানেই লড়াই। তেত্রিশ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে প্রতি মুহূর্তে লড়াই করেছি। এখনো যে মানুষ আমাকে ভালোবাসে, নিজেদের মনের ভেতরে একটা আসন আমায় ছেড়ে দিয়েছে, এসবই ঈশ্বরের আশীর্বাদ। যে লড়াইটা আমি করেছি, সেটাই আমার শ্রম। আমি কখনোই পরিশ্রমকে ভয় পাই না। যে কারণেই হয়তো একেবারে মেইনস্ট্রিম ছবি থেকে শুরু করে আলাদা ধরনের ছবি করে নিজের একটা ব্র্যান্ড তৈরি করেছি। আমি কোনোদিন পরিশ্রমকে ভয় পাই না। পরের প্রজন্মকে পুরো জায়গাটিই ছেড়ে দিয়েছি।

পরের প্রজন্মের কথা বলছেন। এঁদের মধ্যে কাদের আপনার ভালো লাগে?
এখন শহরভিত্তিক অন্যরকম গল্পের ছবি তৈরি হচ্ছে। এই ধরনের ছবিতে পরমব্রত, আবীর, যীশু, ঋত্ত্বিক, শ্বাশ্বত আমার খুব প্রিয়। শ্বাশ্বত তো চল্লিশ বছরের কাছাকাছি এসে নিজেকে আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করল। গল্পের জোর থাকাতেই ওরা ভালো করছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ছবিতে দেব, জিৎ ও অঙ্কুশরা খুব ভালো করছে। এরা সবাই আমার খুবই স্নেহের।

অনেকেরই সঙ্গে অভিনয় করেছেন। অনেক ছবিই দেখেছেন। আপনার প্রিয় অভিনয়শিল্পী কারা?
এই প্রশ্নের জবাব দেওয়াটা খুব মুশকিল। আমার গুরুদেব হিসেবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সবসময় থাকেন। মহানায়ক উত্তম কুমার তো সর্বকালেই আছেন। বম্বেতে নাসিরউদ্দিন শাহ, কমল হাসান, সঞ্জিত কুমার সবরকমের চরিত্রই করেছেন। অমিতাভ বচ্চনের কথা না বললে চলে না। বাংলাদেশে আলমগীর সাহেবের প্রচুর কাজ দেখেছি, আমার খুব ভালো লাগে। রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে কাজ করে ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছুই শিখেছি।

শুটিং শেষে কি কখনো মনে হয়, ইশ…অমুক দৃশ্যটা যদি ওভাবে করতে পারতাম কিংবা এমন কিছু…
এটা সব সময়ই মনে হয়। এখনো সারা দিন শুটিং করে যখন বাসায় ফিরি, তখন মনে হয়, শুটিংটার বোধহয় কিছুই হলো না। মনে হয়, আরও একবার করতে পারলে বোধ হয় ভালো হতো।

প্রতিটি মানুষই কারও না কারও দ্বারা প্রভাবিত। আপনার ওপর কার প্রভাব সবচেয়ে বেশি?
আমি তো মানুষ। আমিও কারও না কারও দ্বারা প্রভাবিত হব, এটাই স্বাভাবিক। ভারতবর্ষের অনেক বড় বড় অভিনেতাদের দেখে শিখেছি, প্রভাবিত হয়েছি। তাদের অনুসরণ করেছি, বোঝার চেষ্টা করেছি। আগের প্রজন্মের অভিনেতারা তাদের জীবনে অনেক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, সেগুলো আবার দারুণভাবে মোকাবিলাও করেছেন। এই প্রজন্মের অনেকে আবার আমাকে অনুসরণ করে।

তেত্রিশ বছরের অভিনয়জীবনে আপনার অভিনীত ছবির মধ্য থেকে কোন তিনটিকে সেরা মনে হয়েছে?
ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দোসর’, গৌতম ঘোষের ‘মনের মানুষ’, সৃজিত মুখার্জির ‘জাতিস্মর’।

সিনেমা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অভিনয় করে যাওয়াটাই আমার কাজ। তবে এবার সিরিয়াসলি ছবি পরিচালনার কথা ভাবছি। ২০১৬ সালের মধ্যেই হয়তো সবাই আমাকে আবার পরিচালক হিসেবে দেখতে পাবেন।

আপনি তো এর আগেও ছবি নির্মাণ করেছিলেন?
ছবি নির্মাণ আমার কাছে আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। সেই ভালোবাসা থেকে আশির দশকে নির্মাণ করেছিলাম ‘পুরুষোত্তম’। এরপর বাংলাদেশ থেকে ‘আমি সেই মেয়ে’ ছবিটি নির্মাণ করি। সেও তো প্রায় অনেক দিন আগের কথা।

প্রথমআলো অবলম্বনে-
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন