বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

যে সব দেশে যেতে ভিসা লাগে না

C82C387E-1F00-4F8E-8DA7-D954FE60F6E5_L_styvpf১০ দিনের ছুটি। কোথাও একটা টুর করলে মন্দ হয় না। তবে দেশ নয়। এবারের টার্গেট একেবারে বিদেশ। কিন্তু সে তো অনেক হ্যাপা! অনেকগুলো টাকার ব্যাপার। তার উপর পাসপোর্ট ভিসার চক্কর কম নয়। না… মনে হচ্ছে এবারটা ক্যানসেল করে পরেরবার ট্রাই নিলে ভালো হবে। কিন্তু…

…আর কিন্তু কিন্তু করবেন না। দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন চট করে। আপনাকে এমন কয়েকটি সুন্দর দেশের সন্ধান দেব, যেখানে যেতে কোনও পাসপোর্ট ভিসার প্রয়োজন হয় না। যে সে দেশ নয়। রীতিমতো তাক লাগানো ফরেন। তা হলে, মুখের হাসি চওড়া হল তো! আর দেরি না করে বরং চলুন জেনে নিই সেই সব দেশের ঠিকানা –

১. থাইল্যান্ড
চকমে যাবেন না। এটাই সত্যি, যে থাইল্যান্ডে যেতে ভিসার প্রয়োজন হয় না। এশিয়া মহাদেশে ইন্ডো-চায়না পেনিনসুলায় অবস্থিত থাইল্যান্ডের পর্যটন বহুচর্চিত। টুরিজ়মই এ দেশের প্রধান রোজগার। সোনালি বালুরাশি, ডাইভিং, মিউজ়িয়াম, উল্লাসে ভরা নাইটলাইফ, ফুলের বাগান, রকমারি পাখিদের কোলাহল, বৌদ্ধ মন্দির – সবেরই দেখা মেলে থাইল্যান্ডে গেলে। এবং সেসবই আপনি উপভোগ করতে পারেন ভিসা ছাড়াই।

২.উগান্ডা
পূর্ব অ্যাফ্রিকার উগান্ডাও সেই দেশ যেখানে বিনা ভিসাতেই বেড়িয়ে আসা যায়। একে অ্যাফ্রিকায় বন্যতার ছাড়াছড়ি, তায় উগান্ডার প্রকৃতি আপনাকে হাত নেড়ে ডাকবেই। দেশটি গরিব হলেও সেখানকার খুদ্র কুটির শিল্পের বিশেষ কদর আছে আন্তর্জাতিক বাজারে। উগান্ডার রুভেনজ়োরি পর্বতমালার উল্লেখ আমরা পাই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর উপন্যাস “চাঁদের পাহাড়”-এ। তা হলে, আর দেরি কিসের, বেরিয়ে পড়লেই হয়।

৩. হাইতি
ক্যারিবিয়ান দ্বীপমালার এক আশ্চর্য দেশ হাইতি। সেখানে যেতেও ভিসার প্রয়োজন নেই। হাইতির মূল রোজগার আসে টুরিজ়ম থেকে। সেখানে গেলে আপনি দেখতে পাবেন মন ভোলানো ঝরনা, গূহা, বিস্তীর্ণ বালুতট, বিট্রিশ শাসনকালের ঐতিহাসিক স্থাপত্য, শৈল্পিকতায় মোড়া আশপাশ ও সুদৃশ্য সব রিসর্ট। এই ১০টা দিন অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারেন হাইতির শোভা দেখতে দেখতে। শান্তি কেড়ে নিতে সেখানে কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না।

৪. ফিজ়ি
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে, নিউজ়িল্যান্ডের উত্তরপূর্ব কোণে অবস্থিত দেশ ফিজ়ি। ফিজ়িতে পৌঁছতেও ভিসার দরকার পড়ে না। সেখানে গেলে দেখতে পাবেন ঘন অরণ্য ও নানা প্রজাতির মাছ। যতদিন গেছে উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে ফিজ়ির পর্যটন। দেশের আর্থিক অবস্থা অনেকটাই পালটে দিয়েছে টুরিজ়ম।

৫. ম্যাকাও
চিনের দক্ষিণপূর্ব তীরে রয়েছে আরও একটি চমৎকার দেশ ম্যাকাও। সেখানে যেতেও আপনাকে ভিসা বানাতে হবে না। তবে সপরিবারে সেখানে যেতে চাইলে বলি, ম্যাকাও কিন্তু জুয়াড়িদের ঠেক। লাস ভেগাসের মতো ম্যাকাওতেও রয়েছে শয়ে শয়ে ক্যাসিনো। সেই সঙ্গে রয়েছে আলিশান হোটেল ও লা জবাব রিসর্টে রিল্যাক্স করার সুখ।

৬. হংকং
থাইল্যান্ডের মতো চিনের হংকংয়েও পৌঁছনো যায় ভিসা ছাড়াই। হংকংয়ের ব্যাপারে নতুন করে আর কী বলব। সুন্দরী হংকংয়ের ব্যস্ত শহুরে জীবন দেখে আপনার মনে হবে কোনও সিনেমার দৃশ্যে ঢুকে পড়েছেন। কী নেই সেখানে, ভিক্টোরিয়া হার্বার থেকে শুরু করে ক্লক টাওয়ার। সবটা ঘুরে দেখতে ১০টা দিন তো লেগেই যাবে।

৭. কুক দ্বীপ
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত কুক দ্বীপে যেতেও ভিসা লাগে না। দ্বীপের রাজধানী রারোটংগা ও শহর আইটুটাকিতেই পর্যটকরা বেশি ভিড় জমায়। তবে কুক দ্বীপের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হল এখানে চোর ছিনতাইবাজ একজনও নেই। সকলেই সৎ ও ভালো মানুষ।

৮. কম্বোডিয়া
উত্তরপূর্ব এশিয়ার ইন্ডো-চায়না পেনিনসুলার দেশ কম্বোডিয়ায় যেতেও ভিসার প্রয়োজন নেই। বিশ্ববাসীর কাছে কম্বোডিয়ার আরও একটি নাম “কিংডম অফ ওয়ান্ডার”। সুদৃশ্য দেশটিকে ঘিরে রয়েছে সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক শোভা। কয়েকটা দিন নিরিবিলিতে কাটাতে চাইলে ঘুরে আসতেই পারেন কম্বোডিয়া থেকে।

৯. কেপ ভের্দে
অ্যাফ্রিকার পশ্চিম কোণে, আটল্যান্টিক মহাসাগরে রয়েছে কেপ ভের্দে দ্বীপ। সেই দ্বীপে পা রাখলেও কেউ আপনার ভিসা দেখতে চাইবে না। ১৫ শতাব্দীতে কয়েকজন পর্তুগিজ় অনুসন্ধানকারী দ্বীপটি আবিষ্কার করেন। সেই প্রথম ইউরোপীদের প্রবেশ ঘটে দ্বীপে। ইকো টুরিজ়িমের জন্য সুনাম আছে কেপ ভের্দের। সুন্দর মনোরম আবহাওয়ার জন্যে সেখানে ভিড় জমে পর্যটকদের। রয়েছে ডাইভিং, উইন্ড সার্ফিং, সেইলিং, ট্রেকিং করার মজাও।

১০. মায়ানমার
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ মায়ানমারে (পুরোনো নাম: বর্মা) যেতেও ভিসা লাগে না। মায়ানমারের বড় বড় শহরগুলি যেমন – ইয়াংগন, ম্যান্ডালেতে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে রয়েছে বেশ কয়েকটি ধার্মিক স্থান ও মন ভোলানো সমুদ্র সৈকতের হাতছানি।

লাইফ স্টাইল  ডেস্ক

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন