যার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে অবস্থানের পর হয়রানির মুখে পড়েন নারায়ণগঞ্জের আজাদ; এবার সেই দখলকারী শিল্পপতি অমল পোদ্দারের ভাইপো ও এক কর্মচারী অপরহণ হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক পোশাককর্মীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যার বিরুদ্ধে, সেই ব্যবসায়ী অমল পোদ্দারের ভাতিজা ও এক কর্মচারী দুদিন ধরে ‘নিখোঁজ’ দাবি করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।
অমল পোদ্দারের বড় ভাই প্রদীপ কুমার সোমবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও থানায় এই সাধারণ ডায়েরি করেন বলে ওসি মো. মঞ্জুর কাদের জানান।
এতে বলা হয়, গত রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন লোক একটি মাইক্রোবাসে করে এসে পঞ্চমীঘাট এলাকা থেকে প্রদীপের বড় ছেলে বাপ্পী পোদ্দার ও তাদের বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সোলাইমানকে (৩৮) উঠিয়ে নিয়ে যায়।
তারা নিখোঁজ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও র্যাব-১১ কার্যালয় এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যোগাযোগ করেও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি বলে জিডিতে লেখেন অমল পোদ্দারের ভাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রদীপ পোদ্দার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও আমার ছেলে ও কেয়ারটেকারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি। কারা তাদের উঠিয়ে নিয়ে গেছে তা পুলিশকে তদন্ত করে বের করার অনুরোধ করেছি।”
সোনারগাঁওয়ের সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাটের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ সম্প্রতি মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ফ্যাক্টরির মালিক অমল পোদ্দারের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ আনেন।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ২ অগাস্ট তিনি প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিলে পরে পুলিশের বাধায় বাড়ি ফিরে যান।
ওই রাতেই তার বাড়িতে র্যাব অভিযান চালায় এবং তার চাচা নুরু উদ্দিনের ছেলে সোহেলকে ধরে নিয়ে যায়। র্যাব সোহেলকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের দাবি করলেও আজাদের পরিবার বলছে, এটা হয়রানিমূলক।
ব্যবসায়ী অমল পোদ্দার, যার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী অমল পোদ্দার, যার বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আজাদের চাচাত ভাই সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের র্যাব গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছে ৩৭০টি ইয়াবা পাওয়ার দাবি করে।
অমল পোদ্দারের ভাস্তে বাপ্পী পোদ্দার ষড়যন্ত্র করে র্যাবকে দিয়ে সোহেলকে গ্রেপ্তার করিয়েছে দাবি করে চাচাত ভাইয়ের মুক্তির পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধও করেন আজাদ।
আজাদ বলছেন, ওই এলাকায় শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য অমল পোদ্দারের কাছে ১৫ শতাংশ জমি বিক্রির বায়না করেছিলেন তার বাবা আব্দুল খালেক। কিন্তু অমল আরও ৩০ শতাংশ জমি বিক্রির জন্য চাপ দিচ্ছে এবং তাতে রাজি না হওয়ায় ১৫ শতাংশ জমি বিক্রির বাকি টাকাও দিচ্ছে না।
পঞ্চমী ঘাটে চার দিকে টিনের প্রাচীর ঘিরে অমল পোদ্দারের যে কারখানা নির্মাণের কাজ চলছে, সেই সীমানার মধ্যেই আজাদদের ১৫ শতাংশ জমি পড়েছে।
ওই সীমানা প্রাচীরের বাইরে ১১ ও ১৯ শতাংশের আরও দুটি জমি রয়েছে আজাদদের। সেই জমি বিক্রি না করলে ১৫ শতাংশ জমি বিক্রির টাকা অমল দিচ্ছেন না বলে আজাদের অভিযোগ।
অবশ্য অমল সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলবেন।
পরে আজাদ ও তার চাচাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক মো. আনিছুর রহমান মিঞা। সে সময় তিনি জমি রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন বলে গত ৮ অগাস্ট জানান আজাদ।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


