বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গ্যাসের অভাবে আড়াই শতাধিক কারখানা অচল

imagesদ্বিতীয় ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ করে এনেছে আশুলিয়ার হাই ফ্যাশন লন্ড্রি লিমিটেড। বাকি শুধু মূলধনি যন্ত্রপাতি স্থাপন। কিন্তু গ্যাসের অনিশ্চয়তায় যন্ত্রপাতি আমদানি করতে পারছে না বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানটি। যদিও প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে সম্প্রসারিত ইউনিটটিতে।

বস্ত্র খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ। গাজীপুরের টঙ্গীতে সম্প্রসারিত ইউনিটে মূলধনি যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু গ্যাস সংযোগ না থাকায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না কারখানাটি।

হাই ফ্যাশন ও নোমান গ্রুপের মতো একই অবস্থা বস্ত্র ও পোশাক খাতের আড়াই শতাধিক কারখানার। সব প্রস্তুতি শেষ করেও শুধু গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না এগুলো। এসব কারখানার সঙ্গে জড়িত প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না, পোশাক খাতে এমন প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৩৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ১৪ কোটি ২৭ লাখ ঘনফুট। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে রফতানি আয় আসবে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। আর কর্মসংস্থান হবে প্রায় সাত লাখ মানুষের। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।

বস্ত্র খাতের সংগঠন বিটিএমএর তথ্যানুযায়ী, গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না এ খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে স্পিনিং মিলগুলোর স্পিন্ডল সামর্থ্য সাত লাখ। এতে কর্মসংস্থান হবে প্রায় দেড় লাখ মানুষের। আর বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

শিল্পে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, শিল্পে গ্যাস দেয়ার সদিচ্ছা সরকারের রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াও হচ্ছে। তবে গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তাই সচেতন অবস্থান থেকে উচ্চপর্যায়ের কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত না হলেও গ্যাস দেয়ার ক্ষেত্রে কো-জেনারেশন, বিকল্প জ্বালানির মতো শর্ত জুড়ে দেয়া হচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংযোগ পেতে উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি এ তৎপরতা বেড়েছে। গত মাসেই জ্বালানি উপদেষ্টাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন। সর্বশেষ গত রোববার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। সরকার গ্যাস সংযোগের আশ্বাস দিলেও বিনিয়োগ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় কাটছে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু সংযোগ পেয়ে উৎপাদন শুরু করতে পারলেই উদ্যোক্তারা স্বস্তিবোধ করতে পারবেন। এর আগ পর্যন্ত দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। কারণ ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ চক্রহারে বাড়ছে।’

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ২ হাজার ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ হিসাবে প্রতিদিন গ্যাসের ঘাটতি ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

আরও পড়ুন