উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং, পার্কিং, রুট নেভিগেশনসহ বিভিন্ন অ্যারোনটিক্যাল খাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চার্জ দিতে হয়। আর এ চার্জের ওপর ধার্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলো।
সম্প্রতি এয়ারলাইন্সগুলোর অ্যারোনটিক্যাল চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোকে ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রদেয় মূসক বকেয়া হিসেবে পরিশোধের আদেশ দিয়েছে এনবিআর। এতে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর পাশাপাশি বিগত বছরগুলোয় ভ্রমণ করা যাত্রীদের কাছ থেকে মূসক আদায় নিয়ে সংকটে পড়েছে এয়ারলাইনসগুলো।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, এয়ারলাইনস খাত কোনোভাবেই মূসকের আওতায় পড়ে না। মূসক আইন ১৯৯১ ও অর্থ আইন ২০১২ অনুযায়ী, মূসক থেকে অব্যাহতি পাওয়া সেবা খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ারলাইন্স। শুধু চার্টার্ড ফ্লাইট ও হেলিকপ্টার ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে মূসক দিতে হবে। সেক্ষেত্রে এ আইন উপেক্ষা করেই সম্প্রতি এয়ারলাইন্সগুলোর অ্যারোনটিক্যাল চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। এয়ারলাইন্সগুলো থেকে মূসক আদায় করে দেয়ার জন্য বেবিচককে চিঠি দেয়ার পাশাপাশি বৈঠকও করেছে এনবিআর।
সম্প্রতি ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট দফতর থেকে চিঠি পাঠানো হয় বেবিচকে। কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনার লুত্ফর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেবিচকের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর মূসক প্রযোজ্য। কিন্তু তারা এ পর্যন্ত কোনো মূসক পরিশোধ করেনি। তিন বছরের বকেয়া মূসক হিসেবে ২২০ কোটি ৯৬ লাখ ১৩ হাজার ৬২৭ টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে বেবিচককে।
এর আগে অ্যারোনটিক্যাল চার্জ থেকে মূসক আদায়ে গত ২৯ জুন জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এনবিআর কর্তৃপক্ষ। এ সময় বেবিচকের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে অ্যারোনটিক্যাল চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূসক আদায়ের সিদ্ধান্ত দেয় এনবিআর।
পরবর্তীতে মূসক আদায়ের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনায় থাকা দেশী-বিদেশী সব এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বেবিচক। বৈঠকে দেশের সব বিমানবন্দরে অ্যারোনটিক্যাল চার্জের সঙ্গে মূসক আদায়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে ২০০৯ সাল থেকে বকেয়া মূসক আদায়ের বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি যেসব এয়ারলাইন্স তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে, তাদের বকেয়া মূসক কীভাবে আদায় হবে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বৈঠকে।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মফিজুর রহমান বলেন, এমনিতেই এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলো বিভিন্ন সমস্যায় রয়েছে। উড়োজাহাজের সব ধরনের যন্ত্রাংশই আমদানিনির্ভর। এসব যন্ত্রাংশ আমদানি করতে গিয়েও বিভিন্নভাবে মূসক দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর বাড়তি মূসক চাপিয়ে দেয়া হলে পরিচালন ব্যয় আরো বাড়বে; যা এ খাতে সংকট তৈরির পাশাপাশি যাত্রীদেরও ভ্রমণ ব্যয় বাড়াবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূসক কার্যকর হলে এর প্রভাব পড়বে বিমান পরিবহন খাতের ব্যবসার ওপর। আইন অনুযায়ী, সেবা গ্রহণকারী হিসেবে যাত্রীদেরই টিকিট মূল্যের ১৫ শতাংশ হারে মূসক পরিশোধ করতে হবে। ফলে যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধি করেই এয়ারলাইন্সগুলো এ খরচ তুলবে; যা এ খাতের জন্য সংকট ডেকে আনবে। এছাড়া এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে মূসক আদায় করতে হলে ১৯৯১ সালের মূসক আইন সংশোধন করতে হবে।


