বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্লগার হত্যাকারীদের ফাঁদে পা দিচ্ছে রাষ্ট্র: ইমরান সরকার

Imran-11-08-15ব্লগার হত্যাকারীদের শণাক্ত করে আইনের আওতায় নিতে না পারলেও লেখালেখি করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধান কার্যত খুনিদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়সহ সব ব্লগারদের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশে এই অভিযোগ করেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

গত ৭ জুলাই ঢাকার গোড়ানে ঘরে ঢুকে হত্যা করা হয় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নিলয়কে। এর আগে গত ছয় মাসে খুন হন অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও অনন্ত বিজয় দাশ। সবগুলো হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরা জড়িত বলে এলেও ওয়াশিকুরের হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার ছাড়া আর কোনো খুনিকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

এরপর নিলয় হত্যা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গত রোববার পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছিলেন, “যারা মুক্তমনা লেখেন, তাদের কাছে এবং আপনারা যারা আছেন, তাদের কাছে অনুরোধ, আমরা যেন সীমা লঙ্ঘন না করি। এমন কিছু লেখা উচিত নয় যেখানে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে, বিশ্বাসে আঘাত আনে।”

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে ব্লগে বা অন্য কোনো মাধ্যমে লেখালেখি করলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এসব মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান বলেন, “পুলিশ বাহিনীর প্রধান যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি অত্যন্ত আপত্তিজনক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীও তাল মিলিয়েছেন। তাদের বক্তব্য পরোক্ষভাবে হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন করছে। হত্যাকারীরা ধর্মকে সামনে এনে গা বাঁচানোর চেষ্টা করছে। রাষ্ট্র নানাভাবে হত্যাকারীদের ফাঁদে পা দিচ্ছে।”

আইজিপির উদ্দেশে ইমরান বলেন, “সীমা লঙ্ঘনের কথা বলেছেন, এই সীমা লঙ্ঘন কার জন্য এবং কোথায়? যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের সীমা লঙ্ঘনের কথা আপনারা বলেছেন। যারা অন্যায় করছে, সেখানে সীমা লঙ্ঘন কোথায়? আমি সরকারের কাছে জানতে চাই- কত টাকা হলে লুটপাট হলে আপনারা বলবেন সীমা লঙ্ঘন হয়েছে? কত শিশু হত্যা করা হলে বলবেন, সীমা লঙ্ঘন হয়েছে? যখন মানুষ হত্যা হয়, নারীদের কাপড় ধরে টান দেওয়া হয়, তখন আপনারা বলেন ‘এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা’। আপনারা কাদের পক্ষ অবলম্বন করছেন?”

খুনিদের গ্রেপ্তারে সরকারকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অবিলম্বে এই খুনিদের খুঁজে বের করতে না পারলে আমাদের চরম মূল্য দিতে হবে। আমাদের অন্ধকার শাসনের দিকে যেতে হবে।”

মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যা করার মাধ্যমে সমাজে ভীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র।

ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করছে, তারা কোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশের পর একটি মিছিল বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস ও শহীদ মিনার ঘুরে পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়।

চট্টগ্রামেও বিক্ষোভ: এদিকে ব্লগার ও গণজাগরণের কর্মীদের খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে চট্টগ্রাম গণজাগরণ মঞ্চও বিক্ষোভ করেছে। মঙ্গলবার বিকালে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মঞ্চের চট্টগ্রামের সদস্য সচিব চন্দন দাশ বলেন, “একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে, অথচ কোনো আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সৃষ্টি হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রভাবিত হবে।”
সমাবেশে বক্তারা ধর্মের নামে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, সংগঠক সুনীল ধর, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শীল দাশগুপ্তা, ছাত্র ইউনিয়নের মহানগর সভাপতি শিমুল বৈষ্ণব, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মহানগরীর সভাপতি আল কাদেরী জয়, যুবনেতা প্রিন্স রুবেল, সাংস্কৃতিক সংগঠক অনুপ বিশ্বাস, খেলাঘর সংগঠক মোরশেদ আলম চৌধুরী ও ইমাম হোসেন স্বপন এবং অন্তরা দে বক্তব্য রাখেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন