মঙ্গলবার ১৬ অক্টোবর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি চলছেই


NEWSWORLDBD.COM - August 12, 2015

HSIA-Innerমেহেদি হাসান, ফিনল্যান্ড থেকে
এতো কথাতেও আসলে কোনা কাজ হয় না। দু’একজন হয়তো ভালো থাকতে পারে। কিন্তু বিমানবন্দরে প্রবাসীদের যে কতভাবে হয়রানি হতে হয়, তার ইয়ত্তা নেই।

জুন মাসের শেষে আমাকে বাংলাদেশে যেতে হয়েছিল খুব জরুরি কাজে। যথারীতি বাংলাদেশ বিমানে (আমার প্রিয় বিমান সংস্থা) করে গেলাম দুবাই হয়ে। যারা বিদেশে থাকেন তারা জানেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে টাকা পাঠালে প্রায় ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা কম পাওয়া যায়। তাই সঙ্গে করে টাকা নিয়েছিলাম। ইমিগ্রেশন শেষ করে এফএমজি কাউন্টারে গেলাম এফএমজি ফরম পূরণ করতে। এই ফরম প্রমাণ করে আপনার আয় বৈধ ও সকল আয়কর মুক্ত। দেখি কাউন্টারে যুবক বয়সী একজন বসে আছেন। সামনে আরও ১০-১২ জন।

তার কাছে এফএমজি ফরম চাইতেই তার মেজাজ খারাপ। আমি অনুরোধ করলাম, ভাই একটু তাড়াতাড়ি দেন। বিমান চার ঘণ্টা দেরি করেছে দুবাই ও সিলেট মিলে। ফলে বাংলাদেশে ব্যাংকের সময় প্রায় শেষ। এত টাকা নিয়ে যাওয়া সেফ না। যুবক বেশ রাগ দেখিয়ে বললেন, স্যারেরা নাই। আজকে হবে না।

১২ ঘণ্টার জার্নির পর কথা বলার শক্তি থাকে না। আমি শেষ করলাম সেখানকার সব আনুষ্ঠানিকতা। ইউরোর অঙ্কটা দেখে সে প্রথমেই বলল, টাকা তো সঙ্গে নাই, মিথ্যা লিখলেন কেন? আমি আকাশ থেকে পড়লাম। আমি বললাম আমার সঙ্গে আছে, আমি মিথ্যা বলিনি। আমাকে একটা বন্ধ দরজা দেখিয়ে বলল, ওই ঘরে চেক হবে, উনি উপ-সচিব। না পাইলে জেল হবে। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে আবার বললাম, আছে আমার কাছে। আপনি যান, সাইন নিয়ে আসুন।

আমকে ভেতরে ডাকা হলো। এরপর যা হলো তাতে মনে হলো, আমি কোনো বড় অপরাধ করছি, তাই এমন ব্যবহার। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানতে চাইলেন, টাকা কোথায় পেয়েছি, কীভাবে এত কম সময়ে এত টাকা আয় করেছি, টাকা কেন দেশে এনেছি ইত্যাদি। সব প্রশ্নের সঠিক জবাব ও এর সপক্ষে প্রমাণ দিলাম। অর্থাৎ​ কাগজ, নিজের বিদেশি পাসপোর্ট, ব্যাংক থেকে ইউরো ওঠানোর প্রমাণ ইত্যাদি। সবার শেষে তিনি যা বললেন, তাতে আমি অবাক নয় হতবাক হলাম। তিনি আমাকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এনডোর্স ফরম এনে দিতে হবে।

আমি বললাম, ভাই, ফিনল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস নাই, আমি সুইডেনে যাব এই কাগজ আনতে! আর গিয়ে কি বলব তাদের? কি ফরমে সাইন আনব? তিনি বললেন, অ্যাম্বাসেডর লিখিত দেবে এটা ঠিক আছে।

এবার আর সহ্য করতে পারলাম না। বললাম, আপনি আমাকে আমার নিজের দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে বাধা দিচ্ছেন। আমাকে লিখিত দিন যে কি কারণে আপনি আমার এফএমজি ফরম সাইন করবেন না? তিনি একটু নড়ে বসলেন। বললাম, আমি এই দেশের নাগরিক। আমার অধিকার আছে।
তিনি হাসি দিয়ে বললেন, ঘোষণা না দিয়ে যাইতে চাইলে চলে যান।

আমি আবার বললাম, না আমি যাব না। আমি নাছোড়বান্দা। তার পাশের জুনিয়র অফিসার বললেন, ভাই আপনি বসেন। আমি বসলাম না রাগে। কারণ, আমার নিজের দেশে কেউ এ রকম করতে পারে, তা ধারণায় ছিল না। শেষে কর্মকর্তা কাকে যেন ফোন দিয়ে বললেন, আমি ফরম সাইন না নিয়ে যাব না। ওপর প্রান্তে যিনি ছিলেন, তিনি দিতে বললেন। তারপর ওই কর্মকর্তা আরেক জুনিয়রকে ডেকে সাইন করতে বললেন। আমি রুম থেকে বের হয়ে এলাম।

যারা এ পর্যন্ত পড়েছেন তাদের বলি ভালো মানুষও কিন্তু আছেন। এর আগে জানুয়ারিতেও দেশে গিয়েছিলাম আরও বেশি ইউরো নিয়ে। তখন সেখানে কর্মরত এক কর্মকর্তা আমাকে সন্তান আদরে তার চেম্বারে নিয়ে বসিয়েছিলেন।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.