আগস্ট মাস এলেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। সরকার সমর্থিতরা এটাকে ভুয়া জন্মদিন বলে নানা সমালোচনা করলেও প্রতিবছর জমকালো আয়োজনে জন্মদিন পালন করে আসছেন বেগম জিয়া। যদিও ভয়ে মুখ দিয়ে না বললেও ভেতরে ভেতরে অনেকেই ১৫ অাগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বিপক্ষে।
একদিকে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিবসে খালেদা জিয়া ভুয়া জন্মদিন পালন করছেন বলে অভিযোগ করছেন সরকার তথা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বিএনপি কয়েকজন শীর্ষ নেতা মনে করেন, আওয়ামী লীগ নিজেই খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে রাজনীতির মাঠ ঘোলা করতে চাইছে। ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করার অনুরোধ তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য।
বিভিন্ন সূত্রে দেখা গেছে, ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস থেকে পাঠানো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবনী ছাপা হয়। এতে উল্লেখ করা হয় যে খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট।
ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুসারে খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। বিয়ের কাবিননামা অনুসারে জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৯ আগস্ট। তবে ২০০০ সালের ভোটারের তথ্য বিবরণী ফরমে খালেদা জিয়া উল্লেখ করেন যে তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট। তবে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ দুইটি পাসপোর্ট অনুসারে তার জন্মতারিখ ৫ আগস্ট।
১৯৯৭ সালের ২২ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ও ১৯৯৭ সালের ১৯ আগস্ট দৈনিক সংবাদে খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়।
বিএনপির কয়েকজন নেতা মনে করেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) জন্মদিন কোনটা বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। জন্মদিন নিয়ে বিতর্কে না জড়ানোর পক্ষেও মত দেন তারা। তারা মনে করেন, বিভিন্ন সূত্র খালেদা জিয়ার জন্মদিন ভিন্ন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তারাও খুবই বিব্রত। তাই বিয়ষটি স্পষ্ট করতে পারলে আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


