বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সমালোচনা করা যাবে, লাগামহীন নয়: আপিল বিভাগ

news_img_77034বিচার বিভাগ নিয়ে ‘কুৎসা রটনামূলক’ কলাম প্রকাশের মাধ্যমে আদালত অবমাননার দায়ে দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক-প্রকাশক ও মুদ্রাকর মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়কে দণ্ডিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে আদালত সার্বিকভাবে বলেছেন- সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু লাগামহীন নয়। সমালোচনার মাধ্যমে আদালত বা বিচারককে স্ক্যান্ডালাইজড (কুৎসা রটনা) করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বৃহত্তর (লার্জার) আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেছেন, কন্টেম্পট (আদালত অবমাননা) অ্যাক্ট পুরনো হয়ে গেছে, নতুন করে প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এর ওপর জোর দিয়েছেন আদালত।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত আরও বলেছেন, হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্ট শুধুমাত্র কন্টেম্পট অব কোড ১৯২৬’র আন্ডারে এ কন্টেম্পট রুল ইস্যু করেননি। সংবিধানের যে বিধান আছে তার আলোকে কন্টেম্পট অব রুল জারি করেছেন।

তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি বিবেচনা করে আতিক উল্লাহ খান মাসুদ এবং স্বদেশ রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছেন আদালত। উভয়কে আদালতের কার্যক্রম চলা পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করেছেন এবং দুইজনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানার টাকা সাতদিনের মধ্যে যেকোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে বলেছেন। না হলে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের এই প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন- আদালত সার্বিকভাবে বলেছেন, কোর্টকে কোনোভাবেই স্ক্যান্ডালাইজড (কুৎসা রটনা) করা যাবে না এবং সেটা সার্বিকভাবে কোর্ট হোক বা যেকোনো বিচারক হোক। সমালোচনা করা যাবে, কিন্তু তার মাধ্যমে কাউকে স্ক্যান্ডালাইজড করা যাবে না।

কন্টেম্পটের বিষয়ে অন্য মামলায় কি দেওয়া হলো আর এ মামলায় কতোখানি দেওয়া হবে সেটা বিবেচ্য বিষয় না। কোর্ট বিভিন্ন মামলায় বিভিন্ন সাজা দিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আরও পড়ুন