বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

খালেদার পাসপোর্ট বিভ্রান্তি: বিএনপি কি জানাবে কোনটা সঠিক?

Khaleda_Passportবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে একটি পাসপোর্টের তথ্যাবলীর পাতা ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে। একটিকে জন্মদিন লেখা ৫ আগস্ট, অন্যটিতে ১৫ আগস্ট। দুইটি নিয়েই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে ইন্টারনেটজুড়ে। নানা ধরনের মন্তব্য করা হলেও বিষয়টি নিয়ে বিএনপি’র তরফ থেকে শুক্রবার ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একপক্ষ বলছে, পাসপোর্ট অনুযায়ী খালেদার জন্মদিন ৫ আগস্ট। তারা পাসপোর্টকে সঠিক বলছে। আবার অন্য পক্ষ বলছে এটা ফটোশপের জালিয়াতি। খালেদা জিয়ার জন্মদিন আসলেই ১৫ আগস্ট। বিএনপিবিরোধী একটি জালিয়াত চক্র ১৫ আগস্টকে কেটে ৫ আগস্ট করেছে।

এদিকে পাসপোর্টের উপর ভিত্তি করে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে- “খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্মদিন”। তারা ফেসবুকে প্রচারিত ‘খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের’ দুটি ছবি দেখিয়ে বলছে, ২০১৪ সালের মে মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট অনুযায়ী খালেদার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। আরেকটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্টেও নাকি একই জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে বলে দাবি ডেইলি স্টারের।

ডেইলি স্টার বলছে, এসব ছবি যদি ‘ভুয়া’ না হয় তবে খালেদা জিয়ার মোট জন্মদিন পাঁচটি। তা হল: ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট, ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট, ১৯৪৭ সালের ১৯ আগস্ট, ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ও নির্দিষ্ট উল্লেখবিহীন ১৫ আগস্ট।

বিএনপি সমর্থক ফেসবুক ইউজার ও বিভিন্ন ব্লগাররা বলছে, ডেইলি স্টার যে দুটি পাসপোর্টের ছবি ব্যবহার করে খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন থাকার কথা বলছে, ওই দুটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে “সিপিগ্যাং” ফটোশপে তৈরি করেছে বলে এক বছর আগেই প্রমাণিত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি সমর্থকরা বলেছেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিবস হওয়ায় এতদিন খালেদা জিয়ার জন্মদিনের সত্যতা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপত্তি করা হলেও গত বছরের ১৪ আগস্ট এ থেকে সরে যায় তারা। ওই দিন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়াকে ১৫ আগস্টের আগের বা পরের দিন উৎসব পালনের আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেছিলেন, “যদি এটি আপনার জন্মদিবস হয়, তাহলে আগের দিনও করতে পারেন উৎসবটা, পরের দিনও করতে পারেন।” আর চলতি বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও একই কথা বলছেন। গত ৪ আগস্ট তিনি খালেদা জিয়াকে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। আমরা চাই সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমরা আর কোনো বিভাজন চাই না। তাই আপনি ১৫ তারিখ জন্মদিন পালন না করে ১৬ তারিখ পালন করুন।”

পাসপোর্টে জন্মদিন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরিকারী পাসপোর্টটি শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকারের প্রথম বছর ২০০৯ সালের ৩ মে খালেদা জিয়ার নামে একটি পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। ২০১৪ সালের ২ মে এই পাসপোর্টটির মেয়াদ শেষে হলে ওই বছরের ১৪ মে খালেদা জিয়ার নামে একটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার ‘একাধিক জন্মদিন’ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে-এমন বরাত দিয়ে ডেইলি স্টার প্রতিবেদনটিতে দাবি করেছে মাধ্যমিক পরীক্ষার নথি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তার বিয়ের কাবিননামায় ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেয়া শপথনামায় ১৯৪৭ সালর ১৯ আগস্ট তার জন্মদিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবশ্য ডেইলি স্টার বলেছে, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে খালেদা জিয়া ১৫ আগস্টকে তার জন্মদিন হিসেবে পালন করেন। এর আগে ডেইলি স্টার খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের খবর শোনেনি বলে জানিয়ে লিখেছে- খালেদা জিয়া ১৯৯৫ বা ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন পালন করেন।

২০১৩ সালের ২৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে আলাপ করার সময় ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন পালন নিয়ে আপত্তি জানান। এর জবাবে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, “১৫ আগস্ট আমার জন্মদিন। আমি কেক কাটবই।… এটা বলেন না। ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে কোনো মানুষের জন্ম হবে না? কোনো মানুষ পালন করবে না। এগুলো বাদ দেন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন