ঢাকার বাড্ডায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। দুই জন আহত। বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে আদর্শনগর পানির পাম্পের কাছে আড্ডারত অবস্থায় দুবৃত্তরা গুলি করে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
বাড্ডা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সামসু মোল্লা। সেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি মানিক। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহমুবুর রহমান গামা। তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকল পৌনে ১০টার দিকে মারা যান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
আহতদের মধ্যে পিঠে গুলিবিদ্ধ আব্দুস সালামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি যুবলীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা।
মাহবুবুর রহমান গামা নামে অন্যজন গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক। সোনার বাংলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নামে তার একটি এনজিও রয়েছে।
কী কারণে এই হামলা হয়েছে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান ঘটনাস্থল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বলেন, নিহতদের শরীরে গুলির একাধিক চিহ্ন রয়েছে। কী কারণে তাদের উপর হামলা হয়েছে, তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক, এলাকার আধিপত্য, ব্যক্তিগত, ব্যবসা- সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব এবং গোয়েন্দা পুলিশ বিষয়টি দেখছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে কমার্স কলেজের কাছে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয়ের শ’ খানেক গজের মধ্যে ওই পানির পাম্প ঘরের সামনে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নিয়মিত আড্ডা দেন। এর মধ্যেই রাত ৯টার দিকে হামলা হয়।
ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসবক লীগের সহসভাপতি মারুফ আহমেদ মানিক বলেন, তারা ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, ওই সময় অতর্কিত হামলা হয়। আমি আলোচনা থেকে উঠে বাথরুমে গিয়েছিলাম, এর মধ্যেই শুনি গুলির শব্দ, এসে দেখি চারজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
তিনজনকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে শামসু মোল্লা ও মানিকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক আরিফুর রহমান এবং গামার সহযোগী তাহসীর রহমান সৈকত সাংবাদিকদের বলেন, তিন থেকে চারজন হেঁটে এসে গুলি চালায়।
“আহসানিয়া হাসপাতালের দিক থেকে এসে গুলি চালিয়ে তারা হোসেন মার্কেটের দিক দিয়ে হেঁটে চলে যায়,” বলেন সৈকত। তার দাবি, হামলাকারীদের দুজনের হাতে অস্ত্র ছিল।
সৈকত বলেন, “হামলাকারীদের টার্গেট ছিল গামা। প্রথম গুলিটি গামাকে লক্ষ্য করেই করা হয়। এরপর তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।”


