নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পর্যবেক্ষণের কঠোর সমালোচনা করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। উচ্চ আদালতের এ পর্যবেক্ষণকে তিনি ‘ধান বানতে শিবের গীত’ অ্যাখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, এ বিষয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ দেওয়ার কোনো ‘সুযোগ নেই’।
শুক্রবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ডিপ্লোমা ইঞ্জনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু একাডেমির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত বলেন, “বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বৈধ বলে দেওয়া এক রায়ে হাই কোর্ট নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। কিন্তু হাই কোর্ট তো উপন্যাস লেখার জায়গা না।”
দেশে কোনো ‘সাংবিধানিক সঙ্কট’ বা ‘গণতান্ত্রিক সঙ্কট’ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন কীভাবে হবে- তা সংবিধানেই স্পষ্ট বলা আছে। হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট- আপনারা বলে দিয়েছেন কয়জনের সরকার হবে?… এটা তো আপনার বলার কথা না। নির্বাহী হিসাবে প্রধানমন্ত্রী এটা ঠিক করবেন।
ক্ষমতাসীন দলের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট এবং হাই কোর্টের প্রতি আমরা সম্মান রাখি। এ রকম অবজারভেশন দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। এটা নিয়ে উপন্যাস লেখার কথা না। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে, এই অবজারভেশন প্রাসঙ্গিক নয়। আপনাদের কাছে প্রত্যাশা আরও উচ্চ।”
সুরঞ্জিত বলেন, “সরকারের কাজ সরকার করবে।… নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আরেকটি নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের কোনো সুযোগ নাই।”
প্রসঙ্গত, হাই কোর্টের ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে আগামী দুটি সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে দুটি ‘বিকল্প’ দেওয়া হয়েছে।
এর প্রথমটিতে বলা হয়েছে- বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সদস্যদের নিয়ে ৫০ সদস্যের নির্বাচনকালীন নতুন মন্ত্রিসভা হতে পারে। সংসদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৯০ দিন আগে থেকে ওই মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নিতে পারে।
অপর বিকল্পে হাই কোর্ট বলেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রথম চার বছর ক্ষমতায় থাকবে। আর সংসদের প্রধান বিরোধী দল শেষ বছর সরকারের দায়িত্বে থাকবে। তবে এক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দলকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অন্তত অর্ধেক ভোট পেতে হবে।
অবশ্য এ জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে হাই কোর্ট।


