পুলিশ হওয়ার স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগ কর্মী মো. আবদুল আলীর জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দিল! বছরখানেক আগে পুলিশে চাকরির জন্য এক ছাত্রলীগ নেতাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আলীর দরিদ্র বাবা গরু বিক্রি করে ৪৫ হাজার ও ঋণ করে বাকি ৫ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলেন। তবে চাকরি না হওয়ায় বারবার টাকা ফেরত চাইছিলেন আলী। এতে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই ছাত্রলীগ নেতার সহযোগীরা তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে ভাতিজাকে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আলীর চাচা মোহাম্মদ আলী।
এদিকে খুনের ঘটনায় আবদুল আলীর বাবা আখলিছ আলী বাদী হয়ে ৫ ছাত্রলীগ কর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা সবাই আবদুল আলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে দু’জন এজাহারভুক্ত। এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত প্রণজিৎ দাসকে আদালতের নির্দেশে দু’দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। শিক্ষার্থী আবদুল আলী খুনের ঘটনায় শোকসভা করেছেন মদনমোহন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আবদুল আলীর খুনের দায়ে অভিযুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তি বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীরা খুনের জন্য ‘কথা কাটাকাটির’ প্রসঙ্গ সামনে আনলেও আবদুল আলীর চাচা মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর আগে আমার ভাই আখলিছ (আলীর বাবা) বড় ছেলে আবদুলকে পুলিশের চাকরি পাইয়ে দিতে একরাম নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।
ছাত্রলীগের ওই নেতা টাকা নেওয়ার তিন দিনের ভেতরে পুলিশে চাকরির আশ্বাস দেয় উল্লেখ করে মোহাম্মদ আলী বলেন, এই আশ্বাসে আমার ভাই ৪৫ হাজার টাকায় নিজের গরু বিক্রি করেন এবং আরেক ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার করেন। পরে টাকাগুলো ফেরত চাইলে একরাম বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়েছে বলেও জানান আবদুল আলীর চাচা।
অবশ্য আবদুল আলীর বাবা বাদী হয়ে করা মামলায় একরাম নামের কাউকে আসামি করা হয়নি।
কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে জানান, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়। নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলো প্রণজিৎ দাস, আঙ্গুর মিয়া, রাজীব, মাসুদ ও তাকবীর। এদের মধ্যে বুধবার ঘটনার দিন বিকেলে প্রণজিৎকে ও গতকাল আঙ্গুর মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। প্রণজিতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আঙ্গুরকে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া বুধবার রাহুল কান্তি দে নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হলেও তাকে ‘সন্দেহভাজন’ বলে জানিয়েছেন ওসি সোহেল আহমদ।
গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মদনমোহন কলেজের একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রণজিৎ দাসসহ কয়েকজন মিলে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবদুল আলীকে ছুরিকাঘাত করে। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পৌনে ৩টার দিকে তিনি প্রাণ হারান।


