বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতে পৈত্রিক বাড়ি গিয়ে আপ্লুত ইমরুল কায়েস

ywwyvywবাপ-দাদার মুখে ‘ইন্ডিয়ার বাড়ি’র কত যে গল্প শুনেছেন, তার ইয়ত্তা নেই। সেই গল্প শুনতে শুনতে যেন চোখের সামনে দেখতে পেতেন সবুজে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম, গ্রামের পুকুর পাড়, খেলার মাঠ। কিন্তু বেশ কয়েকবার ভারতে এলেও পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার করিমপুর ২ ব্লকের সাহেবপাড়া গ্রামের সেই বাড়িটায় যাওয়া হয়নি জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁ-হাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসের। অবশেষে মিটল সে সাধ। বাবা, মা ও এক বন্ধুকে নিয়ে গ্রাম ঘুরে এলেন ইমরুল।

মঙ্গলবার মায়ের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। মায়ের চিকিৎসার পরে কলকাতা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সপরিবার সাহেবপাড়ায় যান তিনি। ইমরুলের দাদা কায়েম বিশ্বাসের জন্ম সাহেবপাড়াতেই। পঞ্চশের দশকে কায়েম বিশ্বাস চলে আসেন মেহেরপুরে। ইমরুলের বাবা বানি বিশ্বাসের জন্ম অবশ্য মেহেরপুরে। কিন্তু ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আবারো কায়েম বিশ্বাস সপরিবার ফিরে যান পশ্চিমবঙ্গের সাহেবপাড়ায়।দেশ স্বাধীন হলে বছরখানেক বাদে পরিবারটি ফেরে বাংলাদেশে। তারপর থেকে ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হলেও আর এ দেশে আসা হয়নি তাঁদের।

সাহেবপাড়াতেই থাকেন ইমরুলের কাকা বজলু রহমান বিশ্বাস। বজলু বলেন, ‘‘কলকাতায় এসে সাগর (ইমরুলের ডাকনাম) ফোনে বলল গ্রামে আসতে চায়।’’ সেইমতো বৃহস্পতিবার বাড়িতে হইহই শুরু হয়ে যায়। বিশেষ পদ বলতে দেশি মুরগির মাংস আর শেষ পাতে রসগোল্লা। কিন্তু ইমরুল একটি রুটি, সামান্য মাংস ছাড়া আর কিছুই খাননি। রাতেও তাই। তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিকের খাওয়ার বহরে হতাশ তাঁর সম্পর্কিত ভাবি রিমা বিবি। তাঁর কথায়, ‘‘অত বড় মাপের খেলোয়াড়। অথচ খাওয়ার বেলায় লবডঙ্কা! কথায় কথায় শুধু বলে, ‘ভাবি জমিয়ে আর এক কাপ চা কর দেখি’।’’

ইমরুলের দাদার বাড়িতে যাওয়ার খবর শুনে শুক্রবার সকাল থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে বজলু রহমানের বাড়ির সামনে। করিমপুর জামতলা নবারুণ সক্সেঘর পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রেগুলেটেড মার্কেটের মাঠে ব্যাট হাতে স্থানীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলতেও নেমে পড়েন তিনি। বেশ কিছু পরামর্শও দেন।

ইমরুলের কথায়, ‘সেই ছেলেবেলা থেকে করিমপুর, সাহেবপাড়ার নাম শুনে আসছি। এই প্রথম এখানে আসার সুযোগ হল। দাদু বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতেন। এই এলাকার মানুষের আন্তরিকতা, ক্রিকেট নিয়ে এমন উন্মাদনার কথা আমারও মনে থাকবে।’’ শুক্রবার দুপুরে ইমরুল সপরিবার বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন। ফেরার আগে কথা দিয়ে এসেছেন, আবার আসবেন।-আনন্দবাজার।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন