‘৭০-এর দশকের বাংলা কবিতার উজ্জ্বল নক্ষত্র কবি শহীদ কাদরী। তারপর হঠাৎই হারিয়ে যান তিনি বাংলাদেশ থেকে, বাংলা কবিতার ভুবন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন যাপনের সময় হারিয়ে ফেলেন তার পাসপোর্ট। তবে অন্তরে আঁকড়ে আছেন তাঁর বাঙালি পরিচয়।
দীর্ঘ ৩২ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর দেশে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা এই কবি। ১৪ আগস্ট কবির ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এবং তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পোর্টেবল ইউনিট কবির বাড়িতে গিয়ে সম্পন্ন করেন ডিজিটাল পাসপোর্ট তৈরির সব কাজ।
নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক যন্ত্রণা, অনুভূতি ও আধুনিকতাবোধের মিশেলে যিনি পঞ্চাশের দশকে বাংলা কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা, তিনি কবি শহীদ কাদরী। লেখালেখি ছেড়ে দিয়ে ১৯৭৮ সাল থেকে নিউইয়র্কে আছেন এই কবি। ১৯৮৩ সালের পর আর বাংলাদেশে ফেরা না হলেও চিন্তা-ভাবনায় এখনও পড়ে আছেন দেশের মাটিতেই। আঁকড়ে ধরে আছেন তার বাঙালি পরিচয়কে।
অভিমানী এই কবি দেশে ফিরবেন বলে এক যুগ আগে চাকরিতে ইস্তফা দিলেও শরীরে জটিল রোগ বাসা বাঁধার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। এর মধ্যে হারিয়ে ফেলেন বাংলাদেশের পাসপোর্টও। দেশে ফেরার আকুতি থেকে সম্প্রতি তিনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। তার আকুতির প্রতি সম্মান জানিয়ে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পোর্টেবল পাসপোর্ট ইউনিট হাজির হন তার বাসায়।
হুইল চেয়ার নির্ভর স্বনামধন্য এ কবি তার ডিজিটাল পাসপোর্ট তৈরির সব প্রক্রিয়া সারেন ঘরে বসেই। কবির জন্য কিছু করতে পেরে আনন্দিত কনস্যুলেট কর্মকর্তারাও। জীবনের এ অপরাহ্ণে কবির ইচ্ছা কেবল একটাই। বাঙালি পরিচয়কে আলিঙ্গন করে ফিরে যাওয়া প্রিয় মাটি ও আপনজনের কাছে।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


