বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে অনেক দেশকে ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। আর বাৎসরিক চাল উৎপাদনের পরিমাণ এখন মোট জনগোষ্ঠির চাহিদার চেয়ে বেশি। এজন্য ক্ষুধা সূচকেও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অবস্থান সবচেয়ে ভালো। তবে চাল মজুদের পরিমাণ স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ প্রায় ১৯ লাখ টন হলেও এখনো ঘাটতি ৮ লাখ টন। এ অবস্থায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে মজুদ বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাঙালীর প্রধান খাবার ভাত। সেই ভাত তৈরির প্রধান উপকরণ ধান উৎপাদনে, বিশ্বে এখন বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে বর্তমানে ধানের উৎপাদন প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টন, যা থেকে চাল পাওয়া যায় ২ কোটি ৮০ লাখ টন।
স্বাধীনতার পর, ৪৪ বছরে আবাদি জমি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমলেও, খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনের দিক থেকেও, ছাড়িয়ে গেছে অনেক দেশকে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন বলছে, ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সূচক ধরে রাখতে, কৃষি খাতে বাড়াতে হবে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
বর্তমানে বছরে চালের চাহিদা ২ কোটি ৬৫ লাখ টন। সেই হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ টনই থাকে উদ্বৃত্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাড়তি এ চাল রপ্তানি করে সম্ভব বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা। এই মুহূর্তে খাদ্যের মজুদ আছে প্রায় ১৯ লাখ টন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে-একটি দেশে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরকারিপর্যায়ে কমপক্ষে ৬০ দিনের খাদ্য মজুদ থাকা দরকার। সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনও ঘাটতি ৮ লাখ টন। আর তাই খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থেই মজুদ আরও বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞ।
নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


