বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শোক দিবসের সংঘর্ষে গুলি করছিল পুলিশের বহিষ্কৃত কর্মকর্তা

kushtia-Firearm_Newsworldbdজাতীয় শোক দিবসে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া শেষে দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় ছবিতে কালোপাঞ্জাবী ও সাদা পাজামা পরিহিত যে যুবককে গুলি চালাতে দেখা গেছে, তার নাম আনিচুর রহমান আনিচ। তিনি ছিলেন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। বছর দেড়েক আগে রাজধানী ঢাকার কাফরুল থানায় কমর্রত অবস্থায় দুর্নীতির দায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

আনিচ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঢাকা-ঝালুপাড়া গ্রামের মৃত মোশাররফ হোসেন মণ্ডলের ছেলে। চাকরিচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজের চাচাতো বেয়াই এই আনিচ।

শনিবারের ঘটনার পর আনিচ পালিয়ে গেছেন। সংঘর্ষের সময় আনিচ যে শর্টগানটি ব্যবহার করেছিলেন সেটি মোমিনুর রহমান মোমিজের বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন তিনি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রেজা জানান, শনিবার ভোর রাতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজের লাইসেন্স করা শর্টগান ও ৫৬ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার জাতীয় শোক দিবসে জেলা আওয়ামী লীগ র‌্যালি বের করে। র‌্যালি শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়া নিয়ে শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ গ্রুপের সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে সবুজ হোসেন (২৪) নামে এক যুবলীগকর্মী ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ সময় ছুরিকাঘাতে যুবলীগ নেতা বিদ্যুৎ (৩৪) ও আমজুল (২২) আহত হন। তাদেরকে শনিবার রাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান, কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেক।

এদিকে, রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি একরাম উল হাবিব। এ সময় তিনি বলেন, ‘পুলিশের হাতে ক্লু রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে। পুলিশের কোনো গাফলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন