জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। বলেছেন, ‘৩২টি না হোক, আমাদের ১৬টি দাঁত দিন যাতে সময়ে সময়ে কামড় দিতে পারি।’
ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচারের জন্য ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মিজানুর রহমান। বলেন, ১৩ বছরের ফেলানীকে অন্যায়ভাবে ভারতের সীমান্তরক্ষীরা গুলি করে হত্যা করে। দুইবার বিচার চেয়েও তার বাবা ন্যায়বিচার পায়নি।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত। এ জন্য ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মাহফুজা খানম বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার ভিতর দিয়ে আমরা দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কাজ করেছি। আমাদের অর্থ অল্প, প্রশাসনিক লোকবল খুবই কম। শুধু কেন্দ্র নয় প্রতিটি বিভাগে মানবাধিকার কমিশনের একটি করে অফিস থাকা দরকার। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ পেতে হলে কমিশনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।
রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক পরামর্শ সভায় তারা এসব দাবি জানান। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনার (২০১৬-২০) ওপর এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।
ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নেপালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বিচারপতি প্রকাশ চন্দ্র শর্মা অস্থি, ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বিচারপতি শ্রী ধর্মা মরগেসন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সদস্য ও কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন প্রমুখ।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। বাংলাদেশের রেমিটেন্স আয়, রিজার্ভ সবকিছুই ইতিবাচক রয়েছে। এটার সহজ অর্থ হলো- ঠিক পথেই আমরা হাঁটছি। সবকিছুই ইতিবাচকভাবে হচ্ছে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আমরা মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরই রাখবো। কোনো ব্যতিক্রম হবে না। কিছুদিন আগে যেসব শিশু হত্যা হয়েছে তা আমাদের সকলের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে গেছে। শিশু হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত।


