মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা দুটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে। আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চের প্রকাশিত মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় মীর কাসেমের মামলা ৩ ও নিজামীর মামলা ১০ নম্বরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি আদেশের জন্য ও দ্বিতীয়টি শুনানির জন্য তালিকায় এসেছে।
চার সদস্যের এ বেঞ্চের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
গত ২৮ মে মীর কাসেমের আপিলের সার-সংক্ষেপ চার সপ্তাহের মধ্যে ও ২৪ ফেব্রুয়ারি নিজামীর আপিলের সার-সংক্ষেপ দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের জন্য রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং হত্যা-গণহত্যাসহ সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৮টি অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেম আলীকে এবং ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৩ নভেম্বর নিজামী ও ৩০ নভেম্বর মীর কাসেম আলী আপিল করেন আপিল বিভাগে। মীর কাসেম তার দেড়শ’ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ১ হাজার ৭৫০ পৃষ্ঠার আপিলে এবং নিজামী তার ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন। দুটি আপিলেরই অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড হচ্ছেন জয়নুল আবেদিন তুহিন।


