বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মোবাইল চুরি অভিযোগে ঢাকায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা

Hazaribagh-ALসিলেট, খুলনা, বরগুনায় নির্যাতন চালিয়ে শিশু হত্যার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যে রাজধানীতে ঘটেছে একই ধরনের একটি ঘটনা।

রোববার হাজারীবাগে মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক কিশোরকে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযোগ ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে।

নিহতের নাম মো. রাজা (১৬)। সে হাজারীবাগের গণকটুলী লেনের বাবুল মিয়ার ছোট ছেলে।

হাজারীবাগ থানার ছাত্রলীগের নেতা মো. আরজু তার বাসায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে রাজাকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে এই কিশোরের স্বজনদের অভিযোগ।

গণকটুলী থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজাকে বিকাল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজুর বাসাও গণকটুলী লেনে। রোববার রাতে আরজুর বাসা থেকে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরি হয়।

সেই চুরির জন্য আরজু সকালে রাজাকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর করেন বলে এই কিশোরের ফুপু হাওয়া বেগম জানান।

রাজার বাবার বাসা হাজারীবাগের গণকটুলী লেনে হলেও সে কামরাঙ্গীরচরে বোন রেশমার বাসায়ই প্রায় সময় থাকতেন।

হাওয়া বেগম বলেন, “দুপুরে রেশমা আরজুর বাসায় যায় এবং রাজাকে না মারার জন্য তার হাত-পায়ে ধরে। কিন্তু আরজু রাজাকে ফেরত দেয়নি।

“বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমাদের পাড়ার মাজাহার নামে এক বড় ভাই আমাকে ফোন করে জানায় যে রাজাকে বেদম মারধর করে গণকটুলীর বাসায় দিয়ে এসেছে। সেখান থেকে রাজাকে হাসপাতালে আনি।”

হাজারীবাগ থানার ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে না পেলেও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আরজু থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বলে জানান তিনি। তবে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, আরজু এখনও সভাপতি পদে রয়েছে।

এই অভিযোগের বিষয়ে আরজুর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন