বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সাবধান! সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘটছে ভয়ঙ্কর ঘটনা

Sohrawardi-ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-হাইকোর্ট-রমনা পার্কের পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভয়ঙ্কর ও রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে চলেছে। সংঘবদ্ধ ভদ্রবেশের উঠতি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে ওই এলাকা। প্রতিনিয়তই নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে। ঘটনার পর শাহবাগ থানায় গেলে পুলিশ তথ্য প্রমাণ চেয়ে জিডি করার পরামর্শ দেয়। মামলা নিতে চায় না। এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে রবিবার ১৬ আগস্ট সন্ধ্যার পর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক হওয়া ছাত্র ও সকালের খবরের সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল ইমরান তার ফেসবুকে সোমবার সন্ধ্যায় এই ধরনের একটি ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন।

আপনি আর আপনার বান্ধবী ছবির হাট দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিউটের দিকে যাচ্ছেন। শাহবাগের জ্যাম এড়াতে এই শর্টকার্টটা তো আমরা সবাই নেই, নেই না? হ্যা, আমিও নিয়েছি বহুবার।

তো, ধরুণ আপনিও নিচ্ছেন।

রাত তখোন পৌণে আটটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারুকলা এলাকার জন্য এটা কি আহামরি রাত? মোটেই না। অন্তত রাত ১০-১১টা পর্যন্ত এই এলাকা থাকে জমজমাট, প্রাণোচ্ছল।

ফুরফুরা বাতাসে, উজ্জ্বল আলোর পথ বেয়ে শিখা চিরন্তনী পার হয়ে আপনি প্রিয় বান্ধবীকে নিয়ে গল্প করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন ইন্সটিটিউটের গেইটের দিকে, ঐ পথে বেড়িয়ে যাবেন। ঠিক সেই মুহুর্তে আপনাকে ঘিরে ধরলো ৫ যুবক।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপনাকে একদিকে, আর বান্ধবীকে আরেক দিকে অন্ধকারের ভেতর নিয়ে গেলো তারা। মুহুর্তেই তাদের সঙ্গে যোগ দিলো আরো ১০ থেকে ১৫ জন। যেন সব কিছু নিখুত প্লান করা!

এরপর চাপাতি ঠেকিয়ে কেড়ে নিলো আপনার সাধের স্মার্ট ফোন, মানিব্যাগ। পার্কের অন্ধকারের ভেতর আপনার বান্ধবীর সঙ্গে ঐ মুহুর্তে কী ঘটছে আপনি জানেন না তখনোও!

কী, গা শিউরে উঠছে?

ভাবছেন নাটক বা সিনেমার শুটিং অথবা স্বপ্ন?

আরে নারে ভাই, তা ভাবার কোন করন নাই। কারণ আক্রমণকারীদের লাগাতার চড়-থাপ্পর আর কিল-ঘুষিতে আপনি তখোন দিশেহারা। চোখে সরষেফুল দেখছেন রীতিমতো। মামুলি চিমটি কেটে তন্দ্রা পরীক্ষার কোন দরকার নাই।

সব হারিয়ে নি:স্ব আপনি যখন হায়েনাদের কাছ থেকে নিজের আর প্রিয়তম বান্ধবীর মুক্তির প্রহর গুনছেন ঠিক তখোনই শুরু হলো আসল নির্যাতন ও হুমকীর গল্প…

আপনার মানিব্যাগে থাকা ডেবিট কার্ডের পিন নাম্বার চাইলো ওরা। আপনি জানেন তাতে অনেকগুলো জমানো টাকা। স্বভাবতই দিতে ইততস্থ করছেন আপনি। ঠিক সেই সময়ে একজনের চিৎকার কারে ভেসে এলো আপনার, কার্ডের পিন দিবি না, তাইলে মাইয়াডারে সবাই মিলে ধর্ষণ করুম।

এবার কী করবেন আপনি?
সেই মুহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় আর দ:খী মানুষের একজন হিসেবে আপনার আর কিছুই করার থাকে না। আসলেই কিছু করার থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে পিন কার্ড দিয়ে দিলেন, ওরা মুহুর্তেই ৫০ হাজার টাকা তুলে নিলো টিএসসির বুথ থেকে। টাকা তেলার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আপনাকে আর বান্ধবীকে ছেড়েও দিলো। ততোক্ষণে মেয়েটির সঙ্গে যা ঘটেছে তাতে সারা জীবন এক আতঙ্ক সে বয়ে বেড়াবে নিশ্চিত। এই বেদনা তার সোনার চেইন, প্রিয়তম ফোন আর টাকা হারানোর চেয়ে কয়েকশ গুন বেশি।

গা শিউরে ওঠার মতো এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে আমার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ লিমন ভাইয়ের সঙ্গে। গতকাল সন্ধ্যা রাতে। মোটামুটি লোকজনের সামনেই। শাহবাগ থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে। এবং অবশ্যই ১ ঘন্টা ধরে চলতে থাকা এই নির্যাতনের ঘটনায় কেউ এগিয়ে আসেনি!

হ্যাঁ,
আমরা এই আতঙ্কের শহরে বাস করি এবং দিব্যি ‘আমার’ সঙ্গে তো কিছু ঘটেনি ভেবে বেশ শুকরিয়াও আদায় করি। কিন্তু জনাব আপনিও নিরাপদ নন, নেক্সট টার্গেট আপনি। আপনার বউ, বোন, ভাতিজি সবাই।

এই ঘটনায় ছিনতাই, শ্লীলতাহানি, হুমকীসহ নানা অপরাধে মামলা করা যায়, তবু শাহবাগ থানা পুলিশ লিমনকে মামুলি একটা জিডি করার পরামর্শ দেয়। জানতে চাইলে ওসি বলেন, ব্যাকের বুথের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে আসামী চিহ্নত করে জিডিটি মামলায় কনভার্ট করা হবে।

বাহ! কী চমৎকার পুলিশিং… কী অসাধারণ ব্যাখ্যা!

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন