বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত চায় বিএনপি

BNP_বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পুনঃতদন্তসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে বিএনপির পুনঃতদন্ত দাবি করেছে। দলটি বলেছে, এ বিচারের পুনঃতদন্ত হলে বঙ্গবন্ধু হত্যায় তৎকালীন সেনাপ্রধানসহ দলটির (আওয়ামী লীগ) অন্যান্য নেতাদের ভূমিকা কী ছিল তা বেরিয়ে আসবে। তা না করে ‘মনগড়া’ ‘কাল্পনিক’, ‘অসত্য’ অভিযোগ তুলে জিয়াউর রহমানের চরিত্রহনন করলে শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মা শান্তি পাবে না বলেও মনে করে দলটি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পুনঃতদন্তের এ দাবি করেন দলের মুখপাত্র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

রিপন বলেন, গত ১৫ আগস্ট একটি বেসরকারী টেলিভিশনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল হক মনি ও সাবেক সেনা প্রধান কে এম শফিউল্লাহকে নিয়ে টকশো প্রচারিত হয়েছে। টকশোতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ফজলুল হক মনি অভিযোগ করেছেন, ‘শেখ মুজিব হত্যার সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ জড়িত ছিলেন।’

রিপন বলেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমান তলব করার পরও কেন নিশ্চুপ ছিলেন সেনাপ্রধান কে এম শফিউল্লাহ? হত্যাকান্ডের পর শফিউল্লাহ কেন প্রেসিডেন্টের বাসস্থান পরিদর্শনে যাননি- প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তদন্ত হলে শফিউল্লাহর মনে কি ছিলো, কেন তিনি পদক্ষেপ নেননি, প্রেসিডেন্ট তলব করার পর কেন তিনি ব্যবস্থা নিলেন না, কেন ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের বাসস্থান পরিদর্শনে যাননি- এসব বিষয় বেরিয়ে আসবে।’ এসব তদন্ত তাদের নিজেদের (আওয়ামী লীগ) ঘর থেকে শুরু করা উচিত।

রিপন বলেন, তিনি (কে এম শফিউল্লাহ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে রেডিও স্টেশনে ভাষণ দিতে গেছেন। এর মাধ্যমে খন্দকার মোশতাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শেখ মুজিবুর রহমানের আপন ভাগিনা শেখ ফজলুল করিম সেলিম ‘হত্যাকান্ডের ঘটনায় সরাসরি শফিউল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বলেছেন, শফিউল্লাহ জড়িত। বিষয়টিকে হালকা করে না দেখে সরকারের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’

পাশাপাশি ততকালীন রক্ষী বাহিনী প্রধান বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও রক্ষী বাহিনী, আওয়ামী লীগ নেতা মহউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মালেক উকিলসহ অন্যান্য নেতারা কেন নিশ্চুপ ছিলো বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করার দাবি জানান। এছাড়া সেসময় সংশ্লিষ্ট কাউকেই দায়ী না করে কেন জিয়াউর রহমানকেই মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে সেই বিষয়গুলো পুনঃতদন্তের দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ করলে শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার প্রতি সন্মান প্রদর্শন করা হবে না। সন্মান প্রদর্শন করতে হরে প্রকৃত খুনিদের ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে হবে।

রিপন মনে করেন, কোন রাজনৈতিক শক্তি এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছাড়া এরকম হত্যাকান্ড অসম্ভব। তৎকালীন সময়ে সেই হত্যাকান্ডে কারা কারা জড়িত ছিল তা তদন্তে আসা উচিত।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের ঘটনায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে অনেক মিডিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সংবাদ প্রচার করেছে। যদি জিয়া বিএনপির মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা না করতেন, দলটি বার বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় না আসতো, জনগণের হৃদয়ের মনিকোঠায় আস্থা অর্জন করতে না পারতো তাহলে কেউ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মাথা ঘামাতো না।

‘জিয়াউর রহমানকে খাটো করতে উদ্দেশ্যমুলকভাবে শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দেওয়া হয়’ এমন অভিযোগ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, কিছু দলীয় বুদ্ধিজীবী ও তাদের অনুগত দলীয় গণমাধ্যম দিয়ে এই বিষয়ে প্রচার করা হয়। কিন্ত জিয়াউর রহমান কখনও খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি। দেশের মানুষ এই অপপ্রচার বিশ্বাস করে না। ওই হত্যাকান্ডের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলো না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন