বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এদের প্রবীর সিকদারের মতো অবস্থা করবো: সাংবাদিককে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা

EC-NID-DS_Newsworldbdজাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহে ভোগান্তিতে পড়া নাগরিকদের ‘খবর সংগ্রহের অপরাধে’ দুই সংবাদিককে লাঞ্ছিত করেছে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার ১৯ আগস্ট সকালে আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা প্রকল্প কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছিত হওয়া দুই সংবাদকর্মী হলেন, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক জি এম মুস্তাফিজুল আলম ও ক্যামেরা পার্সন রিপু আহমেদ। সঙ্গে থাকা ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

সাংবাদিক লাঞ্ছনার ওই ঘটনার সময় এনআইডি উইং মহাপরিচালকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিক মুস্তাফিজুল আলম জানান, বেলা ১১টার দিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিচ তলায় ক্যামেরা পার্সন রিপু নাগরিকদের ছবি নিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাদের দুর্ভোগের কথাও জানায়।

মুস্তাফিজুল আলম বলেন, এমন সময় সাখাওয়াত নামে একজন কর্মকর্তা আমাদের জিজ্ঞেস করতে থাকে- কার অনুমতি নিয়ে এসব হচ্ছে। আমরা এ নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করতেই তর্ক শুরু করে এবং বলে ‘ওপরে আয়’। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই কর্মকর্তা ক্যামেরা পার্সন রিপুকে টেনেহেঁচড়ে সাততলা নিয়ে যায়। আমিও তাদের পিছু নিই।

পরে তাদের প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক আব্দুল বারীর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ১০-১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

মুস্তাফিজুল আলম বলেন, “ওই কক্ষে নিয়ে যাওয়ার পর বারী সাহেব বলতে থাকেন- ‘কার অনুমতি নিয়েছো? এদেরকে প্রবীর সিকদারের মতো অবস্থা করবো। পুলিশে দাও, মোবাইল নিয়ে নাও’। এরমধ্যে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট শাহাবুদ্দিন, আশিক ও সায়েমসহ অন্যরা মারধর শুরু করে।”

“ঘটনার সময় প্রকল্প পরিচালক মহসীন আলী ওই কক্ষে উপস্থিত থাকলেও নিরব ভূমিকায় ছিলেন; আব্দুল বারীর নির্দেশে কেড়ে নেওয়া হয় আমাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা।”

এদিকে দুই সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছনাকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “দায়িত্বরত অবস্থায় কোনো সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা কোনোভাবে সহ্য করা হবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।”

জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা দিয়ে থাকে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। তথ্য সংশোধন, হারানো, ঠিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা এখান থেকেই নিতে হয়।

আরও পড়ুন