কুষ্টিয়ায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জাকির হোসেন নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত জাকির ১৫ আগস্ট শোক র্যালিতে যুবলীগ কর্মী সবুজ হত্যার ঘটনায় অন্যতম সন্দেহভাজন।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি বনায়ন চত্বরের সামনে যুবলীগ কর্মী সবুজ হত্যা মামলার আাসামীদের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে অভিযান চালায় তারা।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় ২০ মিনিট বন্দুকযুদ্ধ চলার পর সেখান থেকে আহত অবস্থায় জাকিরকে উদ্ধার করা হয়। তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১ টি শার্টার গান, ২ টি রামদা ২ টি গুলির খোসা উদ্ধার হয়েছে। নিহত জাকির জাসদ নেতা পাঞ্জের হত্যা মামলারও আসামী।
সবুজ হত্যা মামলা ছাড়াও জাসদ নেতা পাঞ্জের হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন তিনি।
পুলিশ বলছে, জাসদ নেতা পাঞ্জের হত্যার প্রধান আসামি দুলালের ‘ডান হাত’ ছিলেন জাকির। তিনি দুলালের ‘অবৈধ অস্ত্রের কারবারেও’ জড়িত ছিলেন।
গত ১৫ অগাস্ট দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের মধ্যে জেলা শহরের মজমপুর গেইট এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে সবুজ (২৫) নামের এক যুবলীগকর্মী ছুরিকাঘাতে নিহত হন, আহত হন অন্তত পাঁচজন।
শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের সমর্থকদের ওই সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় সবুজের ভাই আরিফ কুষ্টিয়া মডেল থানায় যে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, তাতে সাজ্জাদ হোসেনসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। জাকির স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সাজ্জাদের পক্ষের লোক ছিলেন বলে স্থানীয়দের তথ্য।
ওসি সাব্বির জানান, গত বছর ১৪ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের আহমেদপুর বাজারে গুলি করে হত্যা করা হয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন পাঞ্জেরকে (৫৬)। এর এক মাসের মাথায় র্যা ব জাকিরকে গ্রেপ্তার করে।
গত জুলাই মাসে ওই মামলা থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানান ওসি।
এ নিয়ে গত দুই দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তিনটি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনের মৃত্যু হল।
গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বেড়িবাঁধের কাছে বাড়ুইবাড়ি এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আরজু মিয়া। চুরির অভিযোগে মো. রাজা (১৬) নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি ছিলেন আরজু।
আর সোমবার গভীর রাতে মাগুরা জেলা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মেহেদী হাসান আজিবর ওরফে অজিবর শেখ।
গত ২৩ জুলাই মাগুরায় আওয়ামী লীগ সমর্থক দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার মামলার ২ নম্বর আসামি ছিলেন আজিবর।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


