বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেয়ে বাস্তবায়ন কঠিন: হাসিনাকে মোদি

Modi-Hasina-Delhi-19-08-15বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশাল বাজারকে কাজে লাগাতে পারলে প্রতিবেশী এই দুই দেশ ‘বড় কিছু’ করতে পারে। এই সময় আলোচনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে এর বাস্তবায়ন অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

কূটনৈতিক সূত্রের খবর, দুই নেতার মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।  স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে দুই নেতা তাদের সন্তুষ্টির কথাও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এজন্য ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। এই সময় নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার আনুষ্ঠানিক ভারত সফরে আসার আমন্ত্রণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, খুব শিগগির তিনি দিল্লি সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা করেন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিসহ দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।

বুধবার নয়া দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন বলে তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান।

শেখ হাসিনার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম পরে সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের বিশাল বাজারের কথা প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক কিছু করতে পারি’।”

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক চুক্তিকে দুই প্রধানমন্ত্রীই স্বাগত জানান।

প্রেস সচিব জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যৌথ মহড়ার কথা বলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মহড়া হলে তা হবে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ এগিয়ে চলায় সন্তোষ প্রকাশ করে নরেন্দ্র মোদী বলেন,  যে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে বাস্তবায়ন ‘অনেক কঠিন’।

কোনো ‘সমস্যা ছাড়াই’ স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ায় এ ঘটনা বিশ্বের কাছে ‘দৃষ্টান্ত’ হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোদী বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের এ ঘটনা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য গবেষণার বিষয় হতে পারে।

গত জুন মাসে ঢাকা সফরের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মোদী বাংলাদেশের আতিথেয়তার প্রশংসা করেন।

‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের স্মৃতিচারণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে গিয়ে তিনি অভিভূত হয়েছেন।

এই জাদুঘরের ডিজিটাইজেশন এবং আধুনিকায়নে প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেন নরেন্দ্র মোদী।

ইহসানুল করিম বলেন, “এজন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়েও ভারতের প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”

শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ের কথা বৈঠকে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাবা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা হত্যার শিকার হওয়ার পর দীর্ঘদিন তিনি নির্বাসনে ভারতে ছিলেন। তখন থেকেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক, যা দিন দিন আরও গভীর হয়েছে।

এ কারণে ভারতের রাষ্ট্রপতির স্ত্রীর প্রয়ানের কথা শুনেই ‘ছুটে এসেছেন’ বলে শেখ হাসিনা জানান।

নরেন্দ্র মোদী তার আসন্ন যুক্তরাজ্য সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, তখন তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাতনি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে দেখা হবে।

সংক্ষিপ্ত সফরে নয়াদিল্লি যাওয়া শেখ হাসিনা বুধবার দুপুরে রেসকোর্স রোডে মোদির বাসভবনে যান; সেখানেই পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে বসেন দুই নেতা। ঢাকায় গত ৬ জুনের পর এটি দু’প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো।

আধ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। আরও থাকেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ঝটিকা সফরে বুধবার ১৯ আগস্ট সকালে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর ওই বৈঠক করতে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নরেন্দ্র মোদির ৭ রেস কোর্স রোডের (আরসিআর) বাসভবনে ওই বৈঠক হয়।

বুধবার সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সোয়া ৮টা) দিকে ইন্দিরা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী।

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবনে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখা করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে। সেখানে কিছুটা সময় কাটান ও প্রণব মুখার্জিকে সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে সঙ্গী হন ছোটবোন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। আরও থাকেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রেসসচিব ইহসানুল করিম ও বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল।

প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জির বাড়িতে যান প্রধানমন্ত্রী। ১৩ তাল কাটরা রোডের ওই বাড়িতেই ছিল শুভ্রা মুখার্জির মরদেহ। পরে লোদি রোড ক্রেমেটোরিয়ামে আয়োজিত শেষকৃত্যে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্মশানে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভাইস প্রেসিডেন্ট হামিদ আনসারি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা এলকে আদভানি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর হোটেল তাজ প্যালেসে অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ৩টায় বিশেষ বিমানে ঢাকার পথ ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন