প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি ভালবাসায় এ যেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইতিহাসকে। একদিকে শাহজাহান আর অন্যদিকে আরঙ্গজ়েব। এই দুই মোঘল সম্রাটকে যেন টেক্কা দিতে চাইছেন ভারতের উত্তপ্রদেশের বুলন্দ শহরের ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ। স্ত্রীর প্রতি ভালবাসায় সম্রাট শাহজাহান যেমন তাজমহল তৈরি করেছেন তেমনি ফৈজুল হাসান কাদরিও স্ত্রী স্মৃতিতে তৈরি করতে চলেছেন আরেক এক নতুন ‘তাজমহল’।
বুলন্দশহরের কসেরকলা গ্রামের বাসিন্দা ফৈজুল হাসান কাদরি পেশায় ছিলেন পোস্টমাস্টার। স্ত্রী বেগম তজমুলিকে বড্ড ভালোবাসতেন নিঃসন্তান ফৈজুল। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মৃত্যু হয় তজমুলি বেগমের। মৃত্যুর সময় স্ত্রীকে কথা দেন যে, তাঁর স্মৃতিতে তিনি বানাবেন ছোটো একটি তাজমহল। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ফৈজুল বানাতে শুরু করেছেন ‘তাজমহল’।
স্মৃতি সৌধ তৈরির আগে কারিগরদের ঘুরিয়ে এনেছেন আগ্রার আসল তাজমহলে। তাঁরা সেখানে খুঁটিয়ে দেখেছেন নকশা। নিজের জমি ও স্ত্রীর গয়না বেচে এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা জোগাড় করেছেন ফৈজুল। এর জোরেই আপাতত খাড়া করেছেন ‘ছোটো তাজমহল’-র ইমারত।
ফৈজুলের কাজে নজর রাখছে উত্তরপ্রদেশ সরকারও। ভবিষ্যতে যে এটিই সে রাজ্যের একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠবে তা যে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্ত্রী মুমতাজ়ের স্মৃতিতে সম্রাট শাহজাহান তৈরি করেছিলেন দুনিয়ার ভালোবাসার অন্যতম সেরা নিদর্শন তাজমহল। অন্যদিকে মা দিলরাস বানু বেগমের স্মৃতিতে আরঙ্গাবাদে স্মৃতি সৌধ ‘বিবি কা মকবরা’ তৈরি করেছিলেন আরঙ্গজ়েব।
সম্রাটদের তৈরি তাজমহল বা বিবি কা মকবরার সঙ্গে অবশ্য নিজের ‘ছোটো তাজমহল’-কে এক সারিতে বসাতে চান না সাবেক পোস্টমাস্টার ফৈজুল হাসান কাদরি। কিন্তু, ভালোবাসার প্রতিযোগিতায় হয়তো তিনি পাল্লা দিতেই পারেন মোঘল সম্রাটদের সঙ্গে।
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


