মাথা ও মুখ ঢেকে ‘নেকাব’ করে যাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন এক শিক্ষক। হিজাবের জন্যে তাকে আপত্তিকর কথাও শুনতে হয়েছে। ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ও কিছু শিক্ষক প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। সরব হয়ে উঠেছে ফেসবুক। তবে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, হিজাবের আড়ালে কোনো জঙ্গি ক্লাসে ঢুকে পড়েছে কি না তা যাচাই করতেই হিজাব খুলতে বলা হয়েছিল।
মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে।
নাম না প্রকাশের শর্তে ক্লাসে উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থী ও একাধিক শিক্ষক জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের একটি ক্লাস চলছিল। এক ফাঁকে শিক্ষক অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান ওই শিক্ষর্থীকে দাঁড়া করে জানতে চান, নেকাব দিয়ে কেন মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা হয়েছে। যারা নেকাব পরে তারা জঙ্গি, বোমাবাজ। যদি ক্লাসে থাকতে হয় তাহলে হিজাব খুলে থাকতে হবে, না হলে চলে যেতে হবে। ওই শিক্ষার্থী নেকাব না খোলায় ড. আজিজুর রহমান তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেন।
আজিজুর রহমান আগেও একই কারণে আরেকজন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছিলেন বলে শিক্ষার্থীরা জানায়।
তবে অভিযুক্ত ড. আজিজুর রহমান বলেন, ছাত্রীটি প্রকৃতই আমার ক্লাসের কি-না, নাকি ছদ্মবেশে অন্য কেউ- তা যাচাই করতেই হিজাব খোলার নির্দেশ দেই। না শোনায় বলি ক্লাস থেকে চলে যেতে। অশালীন কোনো আচরণ করা হয়নি। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কাউকে বোমাবাজ বা জঙ্গি বলিনি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ‘লাভার্স অফ সাইকোলজি’ নামে একটি গ্রুপ পেইজে এ ঘটনা নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে একটি পোস্ট পাওয়া গিয়েছিল। যা ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মুছে ফেলা হয়। এ পেইজেই আরও কিছু স্ট্যাটাসে অনেকেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের দুজন শিক্ষক এ ঘটনার সমালোচনা করেন নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের এই প্রতিবেদকের কাছে। নাম না প্রকাশের শর্তে তারা বলেন, আজিজুর রহমান এভাবে ছাত্রীটিকে চার্জ না করে আরো বুঝিয়ে-শুনিয়ে বলতে পারতেন। কিন্তু ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার অপশন নেয়া উচিৎ হয়নি। তাছাড়া হিজাব বা বোরকা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা কিংবা না আসার ব্যাপারে কোনো আইন নেই। কোনো ড্রেসকোড নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তার বক্তব্য ড. আজিজুর রহমানের মতো। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকের নির্দেশ মেনে মুখ দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করলে এমন কিছু হতো না। কিন্তু কেন করল না, সেটা আমার কাছেও সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।’ ওই শিক্ষর্থীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে সন্দেহজনক মনে হলেও মেয়েটি শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথম দিনের মত ক্লাসে এসেছিল কি না বা কর্তৃপক্ষ পুলিশের শরণাপন্ন না হওয়ায় আদতেই হিজাব দেখেই যে মেয়েটিকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হয়েছে তা একপ্রকার নিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। হিজাব খুলতে বললেও তার পরিচয় সম্পর্কে অন্য কোনো ছাত্রছাত্রীর সহায়তা নেয়া হয়নি। তার পরিচয়পত্র দেখার প্রয়োজন মনে করা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


