রাজনীতি থেকে কিছুদিনের জন্য দূরে থাকতে চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শারীরিক সুস্থতার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। সুস্থ হওয়ার পর দেশে ফিরতে চান। চিকিৎসা চলাকালীন তিনি কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নতুন কোন জটিলতা তৈরি করতে চান না। তাছাড়া আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেন। বিদেশে চিকিৎসার জন্য বাধা নেই বলেও আদেশ দেন। এরপর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বিদেশে ছয় সপ্তাহের চিকিৎসা করতে যান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে এখন অবস্থান করছেন। এই সময়ে তিনি কড়া ভাষায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে সমস্যা হবে মনে করেই কোন কথা বলছেন না। এমনিক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন না।
সূত্র জানায়, সেখানে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা কর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও দেখা করছেন না। অনেক নেতা কর্মীরা তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছেন। তার এক আত্মীয় সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। তার আত্মীয় তাকে জানাচ্ছেন তার সঙ্গে কারা কারা দেখা করতে চান। সেটা তিনি জানলেও কোন নেতাকে সিডিউল দিচ্ছেন না।
এই ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিএনপির একজন নেতা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তিনি চিকিৎসার জন্য এখানে এসেছেন। তা আসার কারণে কারো সঙ্গে দেখা করার ও কথা বলতে চাইছেন না। তিনি নিজেও এখনও কোন মোবাইল ফোন নেননি। তবে তার যে আতœীয়র বাসায় তিনি উঠেছেন ওই বাসায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ যোগাযোগ করে দেখার করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তিনিও তার সঙ্গে দেখা করেননি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিএনপি নেতা আরো জানান, চলতি সপ্তাহে মির্জা ফখরুল ইসলাম চিকিৎসকের কাছে গেছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন চিকিৎসক। রিপোর্ট পাওয়ার পর আরো কোন পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে সেটা করা হবে। এরপর সিদ্ধান্ত হবে তার অস্ত্রপচারের প্রয়োজন হবে কিনা? সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম এখন তার চিকিৎসা নিয়েই ব্যস্ত।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, তিনি ছাড়াও সাদেক হোসেন খোকা, ড. ওসমান ফারুক, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিএনপি নেতা এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তারা বিএনপির প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সমর্থন আরো বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে আগাম নির্বাচনের জন্য সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন।


