বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যুবলীগ নেতাকে হত্যা

Gazipur_Juboleagueজাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণেঅনুষ্ঠানে গাজীপুর কালিয়াকৈর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামকে (৪০) পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে নিজ দলের প্রতিপক্ষ। শুক্রবার ২১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগে অন্তর্কোন্দল, পদধারী নেতাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সম্প্রতি কয়েকজন নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে যুবলীগের আরও একজন নেতা খুন হলেন।

চন্দ্রার জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজ মাঠে আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুর খবর অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে কোনো বক্তব্য না দিয়েই চলে যান।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক নিজ দলের প্রতিপক্ষের হাতে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এদিন কলেজ মাঠে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনাসভা চলছিল। আলোচনাসভার এক পর্যায়ে কলেজ মাঠের পাশে জনৈক মোশারফের চায়ের দোকানে বসে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ধূমপান করছিলেন। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন পেছন থেকে রড, লাঠি ও চাপাতি নিয়ে তার তার ওপর অতর্কিতে হামলা করে। তারা পিটিয়ে ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তাকে আহত করেন। গুরুতর আহতাবস্তায় কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শোক দিবসের ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামীলীগের ৫নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আব্দুল আজিজ। এসময় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক হামলায় নিহতের ঘটনা স্বীকার করে বলেন এ ঘটনার পর শোকসভা পন্ড হয়ে গেছে। অতিথিবৃন্দ থানায় অবস্থান করছেন। ঘটনা সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মৃতদেহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরও পড়ুন