ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১১তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার ২১ আগস্ট বিকেল বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সামনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস বিরোধী জনসভা চলাকালে ইতিহাসের জঘন্যতম এ হামলা চালানো হয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও ২৪ জন নিহত হন। এছাড়াও এই হামলায় ৪শ’ জন আহত হন। এ দিন বিকালে সমাবেশে একটি ট্রাকের উপর অস্থায়ী মঞ্চে যখন শেখ হাসিনা বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন আকস্মিক এই হামলা চালানো হয়। এতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানও আহত হন এবং পরে ২৪ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসাবে দলের নেতাকর্মীর সাথে নিয়ে বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদ, ৩ নভেম্বর জেলা খানায় ৪ জাতীয় নেতা ও গ্রেনেড হামলার শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা মহানর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ।
মোনাজাত শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধু এভিনিউর অস্থায়ী বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে সভাপতি এম এ আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগ, সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কর্স পার্টি, ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুন-অর রশিদ নেতৃত্বে যুবলীগ, নাজমা আখতার ও অপু উকিলের নেতৃত্বে যুব মহিলা লীগ, মোল্লা মো. আবু কাওছার ও পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজার নেতৃত্বে কৃষক লীগ এবং সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা অস্থায়ী বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, যুবলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বাধনিতা চিকিৎসক পরিষদ, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি আন্দোলন, মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ড, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ, হকার্স লীগ, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদ, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, আওয়ামী শিশু-কিশোর যুব জোট, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ সংগঠনসহ অন্যান্য সংগঠন গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
এর আগে ২১ আগস্ট প্রথম প্রহরে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ রাত ১২টা ১ মিনিটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ২৪ মিনিট নীরবতা পালন করে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


