বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ছাত্র বিক্ষোভে অবরুদ্ধ প্রেসিডেন্সি উপাচার্য

Presidency_Kolkataকলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া ঘেরাও শনিবারও চলছে। ছাত্রদের বিক্ষোভে সারারাত  অফিসেই আটকে ছিলেন উপাচার্য। তার সঙ্গে আটকে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার-সহ একাধিক আধিকারিক।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শুক্রবার ক্যাম্পাস আসা উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্রদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদেরই একাংশ। এবং উপাচার্যকে দায়ী করা হয়েছে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকার জন্য। সেই অভিযোগেই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তোলেন ছাত্রদের একাংশ।

মাস কয়েক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের রেশ চলেছিল বহু দিন ধরে। যার ফলে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন তদানীন্তন উপাচার্য অভিজিত্ চক্রবর্তী। এ বার সেই যাদবপুর কাণ্ডেরই যেন ছায়া দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্সিতে। এ ক্ষেত্রেও

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এদিনই প্রথম বার প্রেসিডেন্সি আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর আসার আগে থেকেই বছর তিনেকের পুরনো একটি ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পড়ুয়াদের একাংশ। বিক্ষোভের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। মুখ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার সময়ে তাঁর দিকে কয়েক জন আন্দোলনকারী যেতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় তাঁদের। এর পরেই পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে উপাচার্যকে ঘেরাও শুরু করে আন্দোলনকারীরা।

রাতভর ঘেরাওয়ের পরেও অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় উপাচার্য। তাঁর দাবি, “ওরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছে, তার জন্য আমি কন পদত্যাগ করতে যাব? পুলিশ এসেছিল ভিআইপিদের নিরাপত্তার খাতিরে। আমি পুলিশ ডাকিনি। গত এক বছর চার মাস ধরে বিভিন্ন ভাবে আমাকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমি কোনও দিনই পুলিশ ডাকিনি, আজও ডাকব না।” আন্দোলনকারীদের অবশ্য দাবি, উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকা অসম্ভব।

এই পরিস্থিতিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের কী হবে? আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা ওই অনুষ্ঠান বয়কট করবে। যদিও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে অনড় উপাচার্য। এমনকী ছাত্রদের একটা বড় অংশও অনুষ্ঠানে থাকতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। এ দিন অবশ্য বেশ কিছু ছাত্রকে উপাচার্যকে ঘেরাও করে রাখার বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা গিয়েছে।

তবে এখনও আন্দোলন থামার কোনও লক্ষণ নেই। উপাচার্যের ঘরের বাইরে তো বটেই, ভিতরেও বসে রয়েছেন বেশ কয়েক জন আন্দোলনকারী। চলছে স্লোগান। উপাচার্যের পদত্যাগ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন লবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন