বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি

57-dhara-crosfireগণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ বলেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকে নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকার ও সংবিধান স্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। তাই এই ধারা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে অনতিবিলম্বে ‘ক্রসফায়ার’ আর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

শনিবার তোপখানা রোডে বাম মোর্চার কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের এক সভায় নেতারা এ আহ্বান জানান। সভায় আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বাম মোর্চার ডাকা জাতীয় কনভেনশন সফল করে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

নেতারা বলেন, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ প্রমাণিত হয়েছে। এই ধারা এতো অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট যে সরকার ধারাবলে যে কাউকে যখন-তখন হয়রানি করতে পারে। অবিলম্বে ধারাটি বাতিল করা হোক।

নেতারা আরও বলেন, সম্প্রতি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। এমন চলতে থাকলে দেশে বিচার ব্যবস্থার আর প্রয়োজন থাকবে না। জনগণের আস্থা-বিশ্বাস বলতেও কিছু থাকবে না।

বাম মোর্চার সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মোশরেফা মিশু, মোশাররফ হোসেন নান্নু, জোনায়েদ সাকি, মহিনউদ্দিন চৌধুরী লিটন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, আকবর খান, শহীদুল ইসলাম সবুজ, ফখরুদ্দীন কবির আতিক প্রমুখ।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় যা বলা হয়েছে:
৫৭। (১) কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি [অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে] এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

আরও পড়ুন