বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের দলগুলোর মালিকানা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করা ১১টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয় গত ১৮ আগস্ট। বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন, ১১টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও একটি প্রতিষ্ঠান বাড়ছে। পাপন আরো জানান, সব কিছু ঠিক থাকলে আর ক্রীড়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখানো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা যাচাই-বাছাই করে নির্ধারণ করব। যদি মনে করি ব্যবসার খাতিরে আর লাভের আশায় কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে চাইছে, আমরা তাদের বিদায় জানাবো।
দেশের বাইরে থেকে ফিরে মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাপন এসব কথা জানান।
সূত্রে জানা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় আসরে সিলেট রয়েলস (ওয়ালটন গ্রুপ) সাড়ে আট কোটি টাকা বকেয়া রেখেছিল। এখনও তারা বিসিবিকে পাওনা অর্থ বুঝিয়ে দেয়নি। এছাড়া, দ্বিতীয় আসরে বরিশাল বার্নার্স (আলিফ গ্রুপ বাংলাদেশ) সাড়ে ছয় কোটি টাকা, খুলনা রয়েলস (অরিয়ন গ্রুপ) আট কোটি উনিশ লাখ, দুরন্ত রাজশাহী (ডিজিটাল অটো কেয়ার) ৬ কোটি নয় লাখ আর চিটাগাং কিংস (এসকিউ স্পোর্টস) সাত কোটি ৪৫ লাখ টাকা বকেয়া রাখে।
এ বিষয়ে বিসিবিপ্রধান বলেন, বকেয়া পরিশোধ করেই বিপিএলের তৃতীয় আসরে এসব প্রতিষ্ঠানকে অংশ নিতে হবে।
পাপন বলেন, রংপুর রাইডার্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি (আই স্পোর্টস) বকেয়া পরিশোধ করায় তারা বিপিএলের তৃতীয় আসরের জন্য মালিকানা কিনতে পারবে। প্রথম ও দ্বিতীয় আসরে তাদের কাছ থেকে বিসিবির যে বকেয়া পাওনা ছিল তা পরিশোধ করেছে। ফলে, নতুন আসা ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদেরও যোগ করা হল।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস বাদে বাকী ৫টি দলের ফ্র্যাঞ্চাইজিরা যদি ২৭ তারিখের মধ্যে তাদের বকেয়া পরিশোধ করে তবে, তাদেরও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগ করা হবে। তাতে হয়তো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বিপিএলে দলও বাড়তে পারে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দর্শকদের আগ্রহকে মাথায় রেখে ২০১২ সালে প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ আয়োজন করে বিসিবি। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয় এর দ্বিতীয় সংস্করণ। প্রথম দুটি আসরে ক্রিকেট উন্মাদনা তৈরির পাশাপাশি অর্থ আয়েরও উদ্দেশ্য ছিল বিসিবির। তবে এবার তৃতীয় সংস্করণে এসে অর্থ আয়ের বিষয়টি গৌন রাখছে বিসিবি।
পাপন জানান, ৩০ তারিখ আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলোকে চিঠি দেবো। তাদের এক কোটি টাকা পে-অর্ডার করতে হবে। আর সাড়ে চার কোটি টাকার ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে।
কিভাবে ক্রিকেটারদের দলে নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের নির্বাচন করতে হবে। প্রতি দলে চার জন করে বিদেশি ক্রিকেটার অংশ নিতে পারবে।



