এদেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণকে সকল ক্ষমতার মালিক হিসেবে মেনে নিতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণকে করা হয়েছে। আর মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সরকারের যারা আছে তারা সবাই সেবক। কিন্তু এখনও আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবক হতে পারেননি। জনগণকে সকল ক্ষমতার মালিক হিসেবে মেনে নিতে পারেনি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শনিবার বিকেলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘বঙ্গবন্ধু-সমতা-সাম্রজ্যবাদ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু-সমতা-সাম্রাজ্যবাদ গ্রন্থের লেখক অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ’৭১ এর সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ বীর উত্তম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এমিরিটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী।
খায়রুল হক বলেন, ‘মামলার বোঝা নিয়ে আমাদের আইনজীবীরা কাজ করছেন। এরপরেও সমালোচনা শুনতে হয়। আমাদের দেশে প্রতি ১ লাখ ৫২ হাজার মানুষের জন্য একজন আইনজীবী রয়েছেন। অথচ আমেরিকায় প্রতি ২০ হাজারে একজন, ভারতে ৮০ হাজারে একজন আইনজীবী রয়েছে। ভারত টার্গেট করেছে প্রতি ২০ হাজারে ১ জন আইনজীবী রাখার। অথচ আমাদের দেশে কোন টার্গেটই নেই।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সব চেয়ে বড় অবদান হচ্ছে তিনি আমাদের বাঙালীর পরিচয় দিয়েছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে আমাদের ঢাকা থেকে পাসপোর্ট দেওয়া হতো না। ঢাকায় স্কলারশিপের খবর আসতো মাত্র একদিন আগে যাতে বাঙালী ছাত্ররা সেখানে আবেদন করতে না পরে। চাকরির অবস্থা ছিল আরো ভয়ঙ্কর। সেই দুর্বিষহ অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির কাণ্ডারি ছিলেন বঙ্গবন্ধু।’
ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করা যাবে না। বাংলাদেশের কথা বলতে হলে বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে হয়। তাকে সম্মান করতে হয়। যে মানুষটি জীবনের বেশিরভাগ সময়ই গণমানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জেলে কাটিয়েছেন। সারা জীবন দিনে শুধুমাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। এতো কিছুর পরেও যে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করে না তাকে যে কী বলে ডাকবো জানি না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু দিন আগে দেখলাম শোক দিবসের কর্মসূচি শেষে যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপানো। নির্লজ্জের বাংলাদেশে এ সবও হয়।’
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘যারা শোক সভায় বক্তব্য দেন শুধু তাদেরই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যাদের জন্য জীবন দিয়েছেন সেই গরীব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। যারা সমাজতন্ত্রের কথা বলে এবং যারা সেদিন অস্ত্র জমা না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাবে বলেছিল, দুর্ভাগ্যের বিষয় তাদের মুখেই বঙ্গবন্ধুর কথা আজকে আমাদের শুনতে হচ্ছে।’
তিনি আবুল বারকাতের বইয়ের প্রশংসা করে বলেন, ‘বইটি আকারে ছোট হলেও এতে পুরো দেশের ইতিহাস রয়েছে। এতে অনেক অজানা তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।’
ঢাবি সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


