জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার বিএনপিনেতার মেয়েসহ তিন আইনজীবীকে এবার সন্ত্রাস দমন আইনের অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে জঙ্গি অর্থায়নের মামলায় তাদেরকে রিমান্ডে পাঠান আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-৭ এর এএসপি রুহুল আমিন এই তিনজনকে হাটহাজারী থানার সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতি চান। শুনানি করে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. মিনহাজ সোমবার এ আদেশ দেন।
বিএনপি নেতা সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে ৪৮ ঘণ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. হাসানুজ্জামান লিটন ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মাহফুজ চৌধুরী বাপনকে ৭২ ঘণ্টার রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে বলে তাদের আইনজীবী আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা জামিন চেয়েছিলাম। পাশাপাশি রিমান্ডে না নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলাম। আদালত দুটি আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আলীপুর সুলতান আহমেদ সড়কে ‘আল মাদরাসাতুল আবু বকর’ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গী সংগঠন ‘শহীদ হামজা বিগ্রেডের’ ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ওই মাদ্রাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণের ভিডিও এবং বিপুল সংখ্যক জিহাদি বই পাওয়া যায় বলে সে সময় র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়। ওই ঘটনায় পরে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে এ মামলা দায়ের করা হয়।
র্যাবের দাবি, ওই সময় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর উপজেলার লটমনি পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাওয়া যায়।
হামজা ব্রিগেড নামের ওই জঙ্গি সংগঠনকে অস্ত্র কেনার জন্য এক কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা যোগানোর অভিযোগে গত ১৮ অাগস্ট রাতে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে অস্ত্র উদ্ধারের ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে র্যাব। সেই রিমান্ড শেষে রোববার তিন আইনজীবী চট্টগ্রামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


