দুই সাংবাদিক মারধরের ঘটনা তদন্ত করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। ঘটনার তদন্তকালে আহত দুই সাংবাদিক ছাড়াও অর্ধশতাধিক ব্যক্তির বক্তব্য শোনে কমিটি।
এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, “আমি সোমবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছি। দুয়েকদিনের মধ্যে পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবো।”
গত বুধবার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে গেলে আইডিইএ প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক জি এম মুস্তাফিজুল আলম ও ক্যামেরাপার্সন রিপু আহমেদ মামুনকে মারধর করেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য শহিদ আবদুস সালাম বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মপরিধি মেনে সোমবার বিকালেই এনআইডি উইং মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন দিয়েছি আমরা।”
তবে প্রতিবেদনে দায়ীদের চিহ্নিত করা ও সুপারিশের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।
আহত সাংবাদিক মুস্তাফিজুল আলম বলেন, “তদন্ত কমিটি আমাদের ডেকেছিল। রোববার আমরা কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়েছি এবং লিখিত বক্তব্যও উপস্থাপন করেছি।”
সাংবাদিক লাঞ্ছনা ও মারধরে অভিযুক্ত আইডিইএ উপ প্রকল্প পরিচালক আবদুল বারী, এনআইডি উইং পরিচালক (অপারেসন্স) মহসীন আলী, প্রকল্পের জুনিয়র কনসাল্টেন্ট হোসাইন মো. আশিকুর রহমান, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো. সায়েম, মো. সাহাবুদ্দিন, সাখাওয়াতুল ইসলাম ভূঁইয়া, শরিফুল ইসলাম ও প্রকল্পের ড্রাইভার কামাল হোসেনকেও তদন্ত কমিটি ডেকেছিল।
নির্বাচন কমিশনের সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ইতোমধ্যে এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা প্রকল্প উপ পরিচালক উপ সচিব বারীকে আইডিইএ প্রকল্প থেকে প্রত্যাহারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম।


