সাতক্ষীরার গাজীপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের পাকিরডাঙ্গা কালুতলা এলাকায় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক সদস্যের লাশ পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে স্থানীয় একটি সেতুর নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে বিএসএফ।
এদিকে ভারতীয় সূত্রগুলো জানায়, অনুপ্রবেশে বাধা দেওয়ায় খুন হয়েছেন বিএসএফ জওয়ান। পুকুর থেকে উদ্ধার দেহ। রবিবার রাতে বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্তের দক্ষিণপাড়ায় অনুপ্রবেশে বাধা দেন কর্তব্যরত দুই বিএসএফ জওয়ান। অভিযোগ, এরপরই লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় দালালরা। মাথায় আঘাত পান গোবিন্দ সিংহ নামে এক জওয়ান। তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে পুকুর থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। বিএসএফের ১৪৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ওই জওয়ান উত্তরপ্রদেশের আগ্রার বাসিন্দা। সুনীল ভৌমিক নামে কর্তব্যরত আর এক জওয়ান পালিয়ে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে ওই ঘটনার পর ভারতের ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের ১৩ নাগরিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিএসএফ। এ নিয়ে দুই সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাতক্ষীরা ৩৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর নজির আহমেদ বকশী বলেন, আজ সাতক্ষীরার ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এসব তথ্য দিয়েছে।
বিএসএফের বরাত দিয়ে বিজিবি অধিনায়ক আরো বলেন, ‘রোববার রাতে বিএসএফের পাকিরডাঙ্গা কালুতলা ক্যাম্পের সদস্য গোবিন্দ সিং সীমান্তে টহলে ছিলেন। এর কোনো একসময় তিনি মারা যান।’ তবে তিনি জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে পানিতে পড়ে গিয়ে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
মেজর নজির আহমেদ বকশী জানান, তবে বিএসএফ সদস্যকে পানিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৩ বাংলাদেশিকে আটক করে ভারতের বসিরহাট থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিএসএফ।
এদিকে, এ ঘটনায় ভোমরায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন মেজর নজির আহমেদ বকশী এবং ভারতের পক্ষে ছিলেন বিএসএফের ১৪৪ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট রত্নেশ্বর কুমার। আটক বাংলাদেশিদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হলেও আইনি প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছে বিএসএফ।


