বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্যারিস্টার শাকিলাকে আটকে কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে: মা

Barrster_Shakila_Court_Ctg_Newsworldbdজঙ্গি সংগঠনকে অর্থায়নের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার মা ফরিদা ওয়াহিদ দাবি করেছেন, তার মেয়ে ‘পরিস্থিতির শিকার’।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই দাবি করেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের স্ত্রী ফরিদা।

তার দাবি, বিএনপির হয়ে অনেক মামলা লড়ায় শাকিলা ফারজানাকে ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে। ফরিদা বলেন, “কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। ও তো বিএনপির অনেক মামলা করেছে। তারই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। সময় হলে দেশের জনগণ সব জানতে পারবে।”

এদিকে সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে শাকিলার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও পরে তা হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

জঙ্গি সংগঠন হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে শাকিলাসহ তার সহকর্মী দুই আইনজীবীকে ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামের আদালতের মাধ্যমে তিন দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ।

১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সোমবার তাদের সন্ত্রাস দমন আইনের আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

কারাগার থেকে মেয়েকে আনার সময় ফরিদা ওয়াহিদও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ফরিদা বলেন, “এর মধ্যে একটা ষড়যন্ত্র আছে। সত্যিটা একসময় বেরিয়ে আসবে। সে তো বলে দিয়েছে কীসের টাকা নিয়েছে। তার সৎ সাহস আছে। না হলে তার মতো একজন শিক্ষিত আইনজীবী এভাবে প্রকাশ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করবে না। সে তো ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে।”

শাকিলাসহ তিন আইনজীবীকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব দাবি করে, হামজা ব্রিগেডের ‘ব্লু গ্রুপের’ নেতা মনিরুজ্জামান ডনের ব্যাংক হিসাবে এক কোটি আট লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন তিন আইনজীবী।

রোববার জবানবন্দি দেওয়ার পর শাকিলার আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেছিলেন, “তারা বলেছেন, উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য তারা অর্থ নিয়েছিলেন এবং পরে প্রয়োজন না হওয়ায় তা ফেরত দেন।”

ফরিদা বলেন, আইনজীবী হিসেবে হেফাজতে ইসলামের কোনো মামলা তার মেয়ে পরিচালনা করতেই পারে। ও নিয়েছে, যেটা পারেনি, সেটা ফেরত দিয়ে দিয়েছে। এটার জন্য তো তার অপরাধ হতে পারে না।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ধর রোববার বলেছিলেন, আসামিরা পরোক্ষভাবে অর্থ জোগানের কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করেন। হেফাজত ইসলামের মামলা পরিচালনার জন্য তারা টাকা নিয়েছিলেন এবং সে টাকা ফেরত দিয়েছিলেন। মনিরুজ্জামান ডন হেফাজতে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত নন। তিনি জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা বিগ্রেডের অন্যতম সংগঠক।

আরও পড়ুন