স্বাধীনতা পরবর্তী জাসদের ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বক্তব্যের সঙ্গে বিএনপির বক্তব্যের মিল পাচ্ছে জাসদ। এতে ১৪ দলের ঐক্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে বলেও ক্ষমতাসীন জোটের বৃহত্তম দলটিকে সতর্ক করেছে সরকারের শরিক দলটি।
সদ্য স্বাধীন দেশে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গঠিত জাসদই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরি করেছিল বলে শেখ সেলিমকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ২৪ আগস্ট একটি বিবৃতি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জানায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক নেতৃত্বাধীন দলটি।
আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাসদ গঠনের পর বঙ্গবন্ধু সরকারের চরম বিরোধিতা ছিল দলটির। তবে ’৮০ এর দশকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটে যোগ দেয় দলটি। এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারেও অংশ নিচ্ছে।
সোমবার জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, “আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জনাব শেখ ফজলুল করিম সেলিম আর বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন যখন একই সময়ে একই ভাষায় জাসদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসে, এই অভিন্ন ভাষার যোগসূত্র কী?”
বিএনপির মতো করে আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য ১৪ দলীয় ঐক্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়ার যুক্ত বিবৃতিতে।
“যখন প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দল নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের জনগণ ও ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর খুনি গোষ্ঠী ও বঙ্গবন্ধু খুনের সুফলভোগী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করছে, তখন জনাব শেখ ফজলুল করিম সেলিমের এ বক্তব্য ঐক্যর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং শত্রুপক্ষের হাতকেই শক্তিশালী করবে।”
রোববার জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে শেখ সেলিমকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, “স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনও বঙ্গবন্ধুর ওপর আঘাত হানতে পারত না, যদি এই গণবাহিনী, জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে, মানুষ হত্যা করে, এমপি মেরে পরিবেশ সৃষ্টি না করত। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল রহস্য বের করতে হবে, কারা কারা জড়িত ছিল।”
১৯৭২-৭৫ সময়ে দলের ভূমিকা নিয়ে জাসদের কার্যকরি সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল সংসদে বলেন, তারা এখন ওই সময়ের ভুলের ‘কাফফারা’ দিচ্ছেন।
শেখ সেলিমের বক্তব্যের একদিন বাদে সোমবার বিএনপি নেতা রিপন এক সংবাদ সম্মেলনে জাসদের ১৯৭২-৭৫ সময়কার ভূমিকার তদন্ত দাবি করেন।
১৯৭২-৭৫ সালে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ গণবাহিনী ও তাদের রাজনৈতিক সংগঠন জাসদকে দায়ী করে রিপন বলেন, “আপনাদের (জাসদ) অপকর্ম সম্পর্কে শুধু এখন আমরাই বলি না, শাসক দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে আপনাদের অপকর্মের কথা প্রতিদিন উচ্চারিত হচ্ছে।”
পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট নিয়ে দলে অবস্থান ব্যাখ্যা করে জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, “বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত, তদন্ত শেষে আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র, সাক্ষীদের জেরা, আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণে কোথাও বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জাসদের সংশ্লিষ্টতার সামান্যতম বিষয় আসেনি।
“তারপরও জনাব শেখ ফজলুল করিম সেলিম কর্তৃক এহেন বক্তব্য প্রদান শুধু সত্যের অপলাপই নয়, উদ্দেশ্য প্রণোদিত।”


