বাংলা প্রবাদ বাক্য রয়েছে- “চোরের মায়ের বড় গলা।” এ বচনটি ঢাকা জেলা আইনশৃংখলা কমিটির বৈঠকে সত্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। যখন সংরক্ষিত আসনের এমপি পিনু খান মাদক ও আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে বক্তৃতা শুরু করেন তখন বৈঠকে উপস্থিত অনেকেই টিপ্পনি কেটে এমন মন্তব্যই করতে থাকেন। যদিও প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি, তবে বৈঠক শেষে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদকের কাছে তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কিছুদিন আগে যার ছেলে মদ্যপ অবস্থায় দুইজন নিরীহ মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলেন তার মুখে এমন কথা মানায় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, আইনশৃংখলা কমিটির সভায় তার মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানোই উচিত হয়নি। উপরন্তু সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে তার এ ধরনের সভায় থাকারও কথা নয়।
অপরদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিলা আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, তার ছেলে বখতিয়ার আলম রনির গুলিতে দু’জন নিরীহ মানুষ খুন হওয়ার পর দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। এ কারণে মহিলা আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠানেই তাকে না রাখার জন্য উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের পর তাকে দলের কোনো সভায় দেখা যায়নি। কিন্তু এখন ঢাকা জেলা আইনশৃংখলা কমিটির মতো সভায় তার উপস্থিতি ও বক্তব্য নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করার সুযোগ পাবে। এটিও দলকে আরেক দফা বিব্রত করল।
মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ঢাকার ডিসি’র কার্যালয়ে ‘ঢাকা জেলা আইনশৃংখলা কমিটি’র সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদক ও ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করাসহ যানজট নিরসনে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। এতে ঢাকা জেলার এসপি হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা পদাধিকারবলে এই কমিটির উপদেষ্টা হলেও সেখানে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। অথচ সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে মঙ্গলবার এই সভায় পিনু খানের আগমন ঘটে এবং তাকে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগও দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডে প্রাডো গাড়ি থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন মহিলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি। এতে গুরুতর আহত হন রিকশাচালক হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠের সিএনজি চালক ইয়াকুব। গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় ১৫ এপ্রিল রমনা থানায় মামলা করেন রিকশাচালক হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম। ইতিমধ্যে ওই ঘটনায় তদন্ত শেষে রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



