বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কাজী জাফর মরলেও এরশাদের দুঃখ গেল না

Ershad-Jaforস্বৈরশাসক এরশাদের হাত ধরে নিয়োগ পাওয়া প্রধানমন্ত্রী হলেও কাজী জাফর আহমেদ সেই এরশাদের জাতীয় পার্টির নামানুসারেই জাতীয় পার্টি গঠন করেছিলেন। এছাড়াও এরশাদের সঙ্গে শেষ জীবনে নানা বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে সেই কাজী জাফর বৃহস্পতিবার মারা গেলেও তাকে যিনি প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন সেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নাকি মরদেহ দেখতে যাবেন না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জাতীয় পার্টিতে এটাই ছিল মূল আলোচনা।

কাজী জাফরকে ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর আগে ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন জাতীয় পার্টি গঠন করেন তখন তৎকালীন ইউনাইটেড পিপলস পার্টির (ইউপিপি) চেয়ারম্যান কাজী জাফর তার দল বিলুপ্ত করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

কাজী জাফর আহমদের লাশ দেখতে এরশাদের না যাওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করেছেন এরশাদের প্রেস এ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় ও এরশাদের ব্যক্তিগত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আখতার। তিনি  বলেন, ‘কাজী জাফর আহমদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছিলেন। কাজী জাফর যখন অসুস্থ তখন স্যার (এরশাদ) নিজের টাকায় তাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে চিকিৎসা করিয়েছেন। সেই জাফর এরশাদ সাহেবের সঙ্গে বেইমানি করে নিজেই জাতীয় পার্টি তৈরি করেছেন। তার লাশ দেখতে এরশাদ সাহেবের যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ব্যক্তিগত সচিব ও দলের কোষাধ্যক্ষ মেজর (অব.) খালেদ আখতার বলেন, ‘স্যার (এরশাদ) কাজী জাফর আহমদের লাশ দেখতে যাচ্ছেন না।’

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও না নেওয়ার প্রশ্নে সৃষ্ট বিরোধের সূত্র ধরে কাজী জাফর আহমদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে এসে ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর পাল্টা জাতীয় পার্টি গঠন করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন